প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার উত্খাত করতে না পেরে বিএনপি জামায়াত এখন গুপ্ত হত্যা করছে। বেছে বেছ মানুষ হত্যা করছে। মানুষ পুড়িয়ে মারা ও ধ্বংস ছাড়া তারা কিছুই করতে পারে না।
শনিবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়ায় শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব চক্ষু হাসপাতাল ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে সুধী সমাবেশে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপি জামায়াত ক্ষমতায় থাকতে গির্জা, প্যাগোডা, মন্দির ও মসজিদে বোমা হামলা হয়েছে। তারা দেশে উন্নয়ন চায় না, এটাই বাস্তবতা। জাতির পিতার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, আমরাই দেশে উন্নয়ন করেছি, করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, দুর্নীতি করে ভাগ্য গড়তে আসিনি। পদ্মা সেতু নিয়ে আমাদের এই কলঙ্ক দেয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। তাই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু করছি। বিএনপি-জামায়াত পদ্মাসেতু নিয়ে যদি ষড়যন্ত্র না করত তবে এই সেতুর কাজ এতো দিনে আরো এগিয়ে যেতো। আমি জাতির পিতার কন্যা। রাজনীতি করছি নিজের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য নয়, মানুষের কল্যাণে। বাকিটা জীবন সেটাই করে যাব। আওয়ামী লীগের লক্ষ্য দেশের সুষম উন্নয়ন করা।
শেখ হাসিনা বলেন, এই দেশের মানুষের জন্য আমার বাবা-মা-ভাই-বোন সবাই জীবন দিয়ে গেছেন। আমি সব হারিয়েছি, আমার তো আর হারাবার কিছু নেই। চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। এখন এদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে চাই।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নকে অনেকে বিস্ময় বলেন। আমি বলি এটি বিস্ময় নয়, বিশ্বাস। দেশের জনগণের প্রতি আমার বিশ্বাস রয়েছে। আমার প্রতিও দেশের মানুষের অগাধ বিশ্বাস বয়েছে। এই বিশ্বাস আছে বলেই দেশের উন্নতি করতে পারছি। আন্তরিকতার ত্যাগের মহিমা নিয়ে নিয়ত ভালো রেখে কাজ করছি বলেই যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই সাফল্য অর্জন করছি।
একই স্থানে প্রধানমন্ত্রী ফিতা টেনে মধুমতি নদীর ওপর নির্মিত চাঁপাইল ব্রিজ, টুঙ্গিপাড়া প্রধান ডাকঘর, গোপালগঞ্জ জেলা মহিলা সংস্থার নবনির্মিত ভবন, গোপালগঞ্জ জেলা শিশু একাডেমি কমপ্লেক্সের উদ্বোধন এবং শেখ লুত্ফর রহমান ডেন্টাল কলেজ, গোপালগঞ্জ টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ, গোপালগঞ্জ ১০ কিলোওয়াট এফএম রেডিও স্টেশন, গোপালগঞ্জ-কাশিয়ানী-গোবরা নতুন রেললাইন নির্মাণ প্রকল্প, টুঙ্গিপাড়া, মুকসুদপুর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন।
