রিজার্ভ চুরিতে দেশের কিছু লোক অবশ্যই জড়িত: অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০১৬, ১৮:৪৯
 
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির বিষয়ে ব্লুমবার্গে দেয়া সাক্ষাতকারে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে গত ফেব্রুয়ারিতে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার চুরি করে ফিলিপাইনে নিয়ে যায় অপরাধীরা। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১ কোটি ডলার উদ্ধার করা সম্ভব। বাকি অর্থ শনাক্ত করা কঠিন।
 
শুক্রবার দেয়া ওই সাক্ষাতকালে অর্থমন্ত্রী বলেন, যে প্রক্রিয়ায় ওই অর্থ চুরি গেছে, তাতে এর সুবিধাভোগীদের চিহ্নিত করা খুবই কষ্টসাধ্য। অধিকাংশ অর্থই কয়েকটি ক্যাসিনো ও এর অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করেছে। বাংলাদেশও একটি তদন্ত চালাচ্ছে। আমাদের কিছু মানুষ অবশ্যই এর সঙ্গে জড়িত। তবে বিষয়টিতে এর বেশি মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।
 
নিউইয়র্ক ফেডের সমালোচনা করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈধতা সম্পর্কে নিশ্চিত না হয়েই ফেড চারটি লেনদেন অনুমোদন দিয়েছে। এ কারণে ওই অংশের জন্য তারাও দায়ী। নিরাপত্তায় ত্রুটি ছিল। আর ফেডারেল রিজার্ভ এ সমস্যার দায় থেকে মুক্ত নয়।
 

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভে রক্ষিত বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাব থেকে গত ৫ ফেব্রুয়ারি চুরি যায় রিজার্ভের ১০ কোটি ১০ লাখ ডলার। এর মধ্যে ২ কোটি ডলার যায় শ্রীলংকায়। বাকি ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার প্রবেশ করে ফিলিপাইনে। দেশটির রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং করপোরেশনের (আরসিবিসি) মাধ্যমে তা ক্যাসিনোতে চলে যায়। যানিয়ে ওই দেশে কয়েকবার শুনানী হয়েছে, তদন্তও চলছে। সবমিলিয়ে গত ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১০০ কোটি ডলার চুরির চেষ্টা চালায় হ্যাকাররা। নিউইয়র্ক ফেড অধিকাংশ অর্থ লেনদেন নির্দেশনা স্থগিত করতে পারলেও ফিলিপাইনে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলারের স্থানান্তর রোধ করতে পারেনি। এছাড়া আরো ২ কোটি ডলার শ্রীলংকার একটি এনজিওর নামে স্থানান্তরিত হলেও পরে তা ফিরে পায় বাংলাদেশ।