খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট শেখ নূরুল হক ও তার ছেলে মনিরুল ইসলামের বিরুদ্ধে ইটভাটা দখল, বাড়িঘর ভাঙচুর, মারধর ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ করেছেন ফিরোজা বেগম নামে পাইকগাছা উপজেলার সাহাপাড়া গ্রামের এক গৃহবধূ।
শনিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ফিরোজা বেগম বলেন, ‘আমার স্বামী মহিউদ্দীন খান ও তার ফুফাতো ভাই রুহুল আমিন খানের ‘ইটভাটা’ সাহাপাড়া গ্রামে অবস্থিত। ১৬ এপ্রিল খুলনা-৬ আসনের (পাইকগাছা-কয়রা) সংসদ সদস্য নূরুল হক, তার ছেলে মনিরুল ইসলাম ও সন্ত্রাসী আজম খানের নেতৃত্বে ৬০-৬৫টি মোটরসাইকেলে করে ১৫০ থেকে ২০০ লোক লোহার রড, দা, শাবল, লাঠি ও বেআইনি অস্ত্র নিয়ে রুহুল আমিন খানের ইটভাটায় হামলা চালায়। এ সময় সন্ত্রাসীরা আমার বাড়ি, ঘরের দরজা-জানালা, আসবাবপত্র, টেলিভিশন, ফ্রিজ ভাঙচুর করে। যাতে প্রায় দুই লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়। সন্ত্রাসীরা আমার ঘরের আলমারী ভেঙ্গে পাঁচ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে যায়। এছাড়া তারা আমার শ্লীলতাহানিও ঘটায়। আমি এমপি নূরুল হকের পায়ে পড়ে এসব কাজ থেকে বিরত থাকার অনুনয়-বিনয় করলেও তিনি তা না শুনে আমাকে লাথি দিয়ে ফেলে দেন। স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় এ সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘২৮ এপ্রিল আমি (ফিরোজা বেগম) বাদী হয়ে এমপি নূরুল হককে প্রধান আসামি করে ১৪ জনের নাম উল্লেখসহ আরো ৮-১০ জনকে আসামি করে পাইকগাছা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করি।’
আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘আমরা থানায় এজাহার দাখিল করলেও পুলিশ মামলা নিতে অস্বীকার করায় আমরা বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেছি।’
ফিরোজা বেগম অভিযোগ করে বলেন, ‘ঘটনার দিন তার দেবরপুত্র সোহাগ খানের গর্ভবতী স্ত্রী সন্ত্রাসী দ্বারা আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ায় গত ২৯ এপ্রিল তার পেটের পুত্র সন্তান মারা যায়।’ তিনি বলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকলেও প্রতিনিয়ত এমপি নূরুল হক, তার ছেলে মনিরুল ইসলাম ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনীর চরম অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে এমপি নূরুল হক, তার পুত্র মনিরুল ও তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী মামলা তুলে নেয়ার জন্য ভয়ভীতি ও জীবননাশের হুমকি দিচ্ছে।’
সাধারণ মানুষ ওই সংসদ সদস্য ও তার বাহিনীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে অভিযোগ তুলে তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
খুলনা-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি
অ্যাডভোকেট শেখ নূরুল হক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমি বা আমার লোকজন কোনো ইটভাটা দখল ও বাড়িঘর ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত নেই। ইটভাটার জায়গার যে প্রকৃত মালিক সেই তার জায়গা নিয়ে নিয়েছে। এর সঙ্গে আমার বা আমার পরিবারের কোন সদস্যের সম্পর্ক নেই।’
