গাজীপুরে আওয়ামী লীগ নেতা হত্যাকাণ্ডে ৪৫ জনকে আসামি মামলা

আপডেট : ০১ মে ২০১৬, ১৫:৩৯
গাজীপুর মহানগরীর ৩৬ ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান মিয়া হত্যার ঘটনায় জয়দেবপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার রাতে নিহত শাহজাহানের স্ত্রী রাবেয়া জাহান বাদি হয়ে এ মামলাটি দায়ের করেন।
 
মামলায় স্থানীয় যুবগলীগ নেতা শফিকুল ইসলাম শফিককে প্রধান আসামি করে ৪৫ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া মামলায় অজ্ঞাত নামা আরো ১০/১২ জনকে আসামি করা হয়।
 
মামলার এজাহারে বাদি রাবেয়া জাহান উল্লেখ করেন, আসামিরা এলাকার চিহ্নিত সন্ত্রাসী অবৈধ অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ এবং খুনি হিসেবে পরিচিত। এদের নামে হত্যা, চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা তদন্তাধীন ও আদালতে বিচারাধীন আছে। আসামিরা আমার স্বামী শাহজাহানের সাথে শত্রুতা করে তাদের সহযোগি সন্ত্রাসী বাহিনীসহ তার ব্যবসা-বাণিজ্য দখল করবে বলে প্রকাশ্যে হুমকি দিতো।
 
বাদি এজাহারে আরো উল্লেখ করেন, আমার ননদের ছেলে ভাগিনা মো: রমজান স্থানীয় গাছা সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয়ের দপ্তরির কাম নাইটগার্ড হিসেবে চাকুরি করে। গত শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে রমজান স্থানীয় গাছা বাজারে যায়। এ সময় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আসামিরা সু-কৌশলে রমজানকে ডেকে ওই বাজারের ফসি মিয়ার টেইলার্সের দোকানের সামনে নিয়ে আসে। পরে শফিকুল ও মজিবরের নেতৃত্বে আসামিরা রমজানকে এলোপাথারি মারধর করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম করে। খবর পেয়ে আমার স্বামী শাহজাহান গাছা বাজার এসে রমজানকে মুমুর্ষু অবস্থায় দেখতে পায়।
 
পরে শাহজাহান তার ভাগিনা রমজানকে মাইক্রোবাসে করে হাসপাতাল নিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে গাছা বঙ্গবন্ধু কলেজ সংলগ্ন চৌরাস্তা মোড়ে পৌঁছলে মামলা প্রধান আসামি শফিকুল ইসলাম শফিকসহ সঙ্গীরা লাঠিসোটা নিয়ে মাইক্রোবাসের গতিরোধ করে শাহজাহানকে টেনে-হিঁচড়ে নামিয়ে মারধোর করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে কুপিয়ে রাস্তায় ফেলে রাখে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে হামলাকারীরা চলে যাওয়ার পর স্থানীয় লোকজন এবং স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ও পরে ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে শাহজাহান মারা যায়।
 
জয়দেবপুর থানার এসআই আনোয়ার হোসেন জানান, নিহত শাহজাহানের মাথাসহ শরীরের বিভিন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।
 
জয়দেবপুর থানার ওসি খন্দকার রেজাউল হাসান রেজা জানান, হত্যাকা-ের ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মামলার আসামিদের গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।