রাবি শিক্ষক হত্যার প্রতিবাদে কফিন মিছিল

আপডেট : ০২ মে ২০১৬, ১৯:২৭


রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার প্রতিবাদে এবং সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে কফিন মিছিল করেছে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় আন্দোলনের দশম দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা এ কর্মসুচী পালন করে।

গত এক যুগে চার শিক্ষক হত্যাকারীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে চারটি কফিন নিয়ে তারা এ মিছিল করে। কফিন মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে শিক্ষক সমিতির সমাবেশে মিলিত হয়। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, 'শিক্ষক হত্যার কফিনের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। আমরা আর এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড চাই না। কফিন আরো বাড়ুক সেটাও আর চাই না। এখনই সর্বোত্তম সময় প্রশাসনের যথাযথ ব্যবস্থা নেয়ার।'

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ কলা ভবনের সামনে থেকে শোক র‌্যালি বের করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে 'মুকুল প্রতিবাদ ও সংহতি মঞ্চ'-এ গিয়ে এক ছাত্র সমাবেশ করে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রীষ্মকালীন ছুটির মধ্যেও আন্দোলন চালিয়ে যাবার ঘোষণা দেয়া হয়।

সরকারের কাছে দ্রুত বিচার দাবি জানিয়ে সমাবেশে অধ্যাপক রেজাউল করিমের মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি বলেন, 'আগামীতে যেন এভাবে আন্দোলন করতে না হয়, রক্তপাত দেখতে না হয়। এজন্য হত্যাকারীরা যেই হোক তাদের আইনের আওতায় আনতে হবে। যারা বিচার চায় তারা কবরে যাওয়ার পরে বিচার করলে কোনো লাভ হবে না। আর সরকার যেন দায় এড়াতে না পারে সেজন্য সজাগ থাকতে হবে।'

এ ছাড়াও একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা, সমাজকর্ম, সমাজবিজ্ঞান, প্রাণিবিদ্যা, ভূ-তত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগও ক্যাম্পাসে প্রতিবাদ মিছিল ও মানববন্ধন করে।

 

IMG0
এদিকে বাংলাদেশ শিক্ষক ফেডারেশনের পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী দুপুর ১২টা থেকে অবস্থান ধর্মঘট পালন করে। রাবি শিক্ষক সমিতির সভাপতি ড. মো. শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আজম শান্তুনুর সঞ্চালনায় এতে বক্তব্য দেন, অধ্যাপক ড. সেলিনা পারভিন, অধ্যাপক ড. খন্দকার ইমামুল, অধ্যাপক ড. তোফাজ্জল হোসেন, অধ্যাপক ড. ছাদেকুল আরেফিন মাতিন, অধ্যাপক নিলুফার সুলতানা, অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা প্রমুখ।

এসময় বক্তারা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, হত্যাকাণ্ডের দশ দিন পেরিয়ে গেলেও অধ্যাপক রেজাউল হত্যাকারীদের এখনো চিহ্নিত করতে পারেনি পুলিশ। প্রশাসনকে আরো বেশি দায়িত্বশীল হবার আহ্বান জানান বক্তারা।

এদিকে অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যার প্রতিবাদে শিক্ষক সমিতির পূর্বঘোষিত কর্মসূচী হিসেবে সোমবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত কর্মবিরতি ও ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট পালন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। এদিন কর্মসূচি চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোন বিভাগেই ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি।