সাদুল্লাপুরে আওয়ামী লীগ-জাপা চেয়ারম্যান প্রার্থীর সংঘর্ষ, আহত ৫

আপডেট : ০২ মে ২০১৬, ১৬:১২
 
আগামী ৭ মে অনুষ্ঠিতব্য গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার জামালপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও জাপা মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি মোটর সাইকেল ভাংচুর ও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর পাঁচ কর্মী আহত হয়। গত রবিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৭ টার দিকে ওই ইউনিয়নের চক শালাইপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
 
আহতরা হলেন, ওই ইউনিয়নের খোর্দ্দ রসুলপুর গ্রামের দুদু মিয়া (৪৫),  রুহুল আমিন (৩০), দূর্গাপুর গ্রামের রাসেল মিয়া (৩৫),  চক শালাইপুর গ্রামের আব্দুল জোব্বার (৫০) ও ছাকা মিয়া (৪০)। তাদের সবাইকে স্থানীয় ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
 
পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুজ্জামান মন্ডল (নৌকা) গত রবিবার সন্ধ্যায় ওই ইউনিয়নের চক শালাইপুর গ্রামের কলম উদ্দিন ডাক্তারের বাড়ির উঠানে বৈঠক শেষ করে কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে লাঙ্গলের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আব্দুর রশিদসহ কর্মী সমর্থকরা তার বাড়ির সামনে (মাদ্রাসার বাজার এলাকায়) পথরোধ করে হামলা করে দুদু মিয়ার একটি সিটি বাজাজ মোটরসাইকেল ভাংচুর ও কর্মী-সমর্থকদের মারধোর করে। খবর পেয়ে নৌকার কর্মী সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে এসে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়।
 
এ নিয়ে রাতেই দুই পক্ষের মধ্যে একাধিকবার ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনায় বাজারের লোকজন দ্বিগবিদ্বিগ ছোটাছুটি করে। খবর পেয়ে উপজেলা ভারপ্রাপ্ত নির্বাহি কর্মকর্তা ও পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। যে কোন মুর্হুতে রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষের আশংকা করছে এলাকাবাসী।
 
আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী নূরুজ্জামান মন্ডল (নৌকা) বলেন, শুধু এ ঘটনাই নয়। তারা আমার নির্বাচনী অফিসে অগ্নি সংযোগ। প্রচার-প্রচারণায় প্রায় প্রায় হামলা, পোস্টার ও ব্যানার ছেড়াসহ ফেসবুক ও এলাকায় ভোটারদের মধ্যে নানা ধরণের অপপ্রচার চালাচ্ছে।
 
তবে জাতীয় পার্টি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী রেজাউল করিম রেজা সাংবাদিকদের বলেন, আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীই তার লোকজন নিয়ে ওই এলাকায় তার নির্বাচনী অফিসসহ এক কর্মীর দোকানঘরে হামলা করেছে। এ সময় বাধা দিতে গেলে তার ৪ কর্মীকে মারধরও করে। একটি মোটরসাইকেলও ভাংচুর করে।
 
সাদুল্লাপুর থানার ওসি ফরহাদ ইমরুল কায়েস জানান, একই পথে দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা মূখোমূখি হলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে এঘটনা ঘটে। তবে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এখন ওই এলাকায় পুলিশী টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে।