মতলব দক্ষিণ উপজেলার ১নং নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়নের চুন্নু মার্কেটে আওয়ামী লীগ প্রার্থী মিজানুর রহমান সেলিমের নির্বাচনী অফিসে আগুন ও ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার গভীর রাতে এই হামলা চালানো হয়।
পরে মঙ্গলবার সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত আ’লীগের কর্মী সমর্থকরা এ ঘটনার প্রতিবাদে ২ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে রাখে।
সরজমিনে গিয়ে জানা যায়, ঐ দিন গভীর রাতে ১নং নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান সেলিমের নির্বাচনী অফিসে আগুন ও ভাংচুর। এটা শেখ রাসেল স্মৃতি সংসদের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে এটি আ’লীগ প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া আধারা আইডিয়াল স্কুলভবন ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনার প্রতিবাদে ঐ দিন সকাল থেকে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কর্মী সমর্থকরা নায়েরগাঁও- পিতাম্বী ও আধারা সড়কে টায়ার জালিয়ে ও রাস্তায় গাছ ফেলিয়ে ২ ঘন্টা সড়ক অবরোধ করে। পরে চুন্নু মার্কেটে এক প্রতিবাদ সভায় বক্তব্য রাখেন ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহসভাপতি এম আজিজ পাটোয়ারী, সাবেক সভাপতি শহিদুল ইসলাম, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের যুগ্নসাধারন সম্পাদক ডা নাছির উদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল খায়ের, ছাত্রলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন সহ নেতৃবৃন্দ। পরে পুলিশ ঘটনা স্থালে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
১নং নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়ন আ’লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. নাছির ও সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবুল খায়ের জানান, আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বর্তমানে আওয়ামী লীগ থেকে বহিস্কৃত নেতা শফিকুর রহমান পাটওয়ারী ও বিএনপির প্রার্থী মো. মান্নান সরকারের কর্মী ও সমর্থকরা রাতের আধারা এ কর্মকাণ্ড করেছে।
কারণ, তাদের কর্মী ও সমর্থকরা বিভিন্ন সময়ে আমাদের কর্মী ও সমর্থকদের হুমকি ধমকি দিয়ে আসছে।
একইভাবে কথা বললেন, ১নং নায়েরগাঁও উত্তর ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের আহবায়ক মোঃ রাসেল পাটওয়ারী, যুগ্ম আহবায়ক মো. খায়ের আহমেদ। আধারা আইডিয়েল স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা ও আওয়ামী লীগ নেতা মোফাজ্জল হোসেন জানান, আমার পরিচালিত বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষ ভাংচুর করে ল্যাপটপ ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে গেছে। আমি আ’লীগ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণার কাজ করছি বলে শফিকুর রহমান পাটোয়ারী ও আঃ মান্নান সরকারের সমর্থকরা এর ঘটনা ঘটিয়েছে।
চেয়ারম্যান প্রার্থী মিজানুর রহমান সেলিম জানান, নির্বাচনের নৌকার গণজোয়ার দেখে প্রতিপক্ষ প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীদের কর্মী সমর্থকরা এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। এসআই জহিরুল ইসলাম জানান, এই ঘটনার সাথে জড়িতদেরকে চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। থানায় একটি মামলা হয়েছে।
বিএনপি প্রার্থী আ. মান্নান সরকার জানান, আমি এ পর্যন্ত ঐ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণায় যাইনি। আমার সমর্থকরা এ ধরনের কোন ঘটনা ঘটায়নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি অবগত হয়ে পুলিশ প্রশাসনকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। যারা দোষী তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।
