‘বিশ্ববিদ্যালয় বাচাঁতে আন্দোলন বেগবান করতে হবে’

আপডেট : ০৩ মে ২০১৬, ১৯:৪৪
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, অধ্যাপক রেজাউলকে হত্যা করে বিশ্ববিদ্যালয়কে হত্যা করা হয়েছে। কারণ বিশ্ববিদ্যালয় মুক্তবুদ্ধির জায়গা, আর রেজাউল মুক্তবুদ্ধির চর্চা করতেন। বিশ্ববিদ্যালয়কে বাচাঁতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আন্দোলনকে বেগবান করতে হবে।
 
মঙ্গলবার ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক এ এফ এম রেজাউল করিম সিদ্দিকী হত্যার বিচার দাবিতে তিনব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি মহাসমাবেশে অধ্যাপক রেজাউলের মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি এ সব কথা বলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনের সামনে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
 
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. শহীদুল্লাহর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক শাহ্ আজমের সঞ্চলনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা, রাবি উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন, রেজাউল করিমের স্ত্রী হোসনে আরা, মেয়ে রিজওয়ানা হাসিন শতভি, বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, মহাসচিব অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, সহসভাপতি অধ্যাপক আনন্দ কুমার সাহা, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান, উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মোকাদ্দাম হোসেন, রুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি নীরেন্দ্র নাথ মোস্তাফী প্রমুখ।
 
সমাবেশে অধ্যাপক রেজাউল করিমের স্ত্রী হোসনে আরা বলেন, ‘আজ ১১ দিন হয়ে গেলো। কোনো আশার আলো দেখা যাচ্ছে না। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আন্দোলন দেখে মনে হয় আশার আলো দেখতে পাবো।
IMG0
একটা হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার অর্থ আরেকটা হত্যার উসকানি দেয়া। তাই দ্রুত এ হত্যাকাণ্ডের বিচার করুন। আপনারা যদি এর বিচার করতে না পারেন তাহলে বুদ্ধিজীবী দিবস থাকবে না, ৩৬৫ দিনই বুদ্ধিজীবী দিবস পালন করতে হবে।
 
রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ‘আমাদের সরকার ক্ষমতায় আছে বলে শত্রুকে ছেড়ে দিয়ে মিত্রের দিকে তাকিয়ে কথা বলব না। এসব শত্রুদের বিরুদ্ধে কঠোর হতে হবে, লড়াই-সংগ্রাম করতে হবে। রেজাউল হত্যাকারীদের ফাসির কাষ্ঠে দেখতে চাই, বিচারহীনতার সংস্কৃতি দেখতে চাই না। বিচারহীনতার সংস্কৃতি চলতেই থাকলে এদেশে গণঅভ্যুত্থান হবে। বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের পশ্চ্যাৎগমন চলবে না।
 
শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ বাংলাদেশে একের পর গুপ্তহত্যা হচ্ছে। খুনিরা তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী একের পর এক খুন করে যাচ্ছে। কিন্তু হত্যা, খুন, গুমের বিচার করতে পারছি না, এটা আমাদের ব্যর্থতা। বিচার না করার জন্য তারা আস্কারা পেয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন স্বাধীনতাবিরোধী ও সাম্প্রাদয়িক শক্তিগুলো পিছনে টেনে ধরার চেষ্টা করছে।
 
শিক্ষক সমিতি ফেডারেশনের মহাসচিব অধ্যাপক মাকসুদ কামাল পরিবারে প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করে বলেন, ‘আজকে যারা রেজাউলের নামে কুৎসা করছে তারা পুরো বাংলাদেশের নামে কুৎসা করছে। তারা সেই সম্প্রদায়; যারা বর্বর, যারা সংস্কৃতি জানে না, মুক্তবুদ্ধি জানে না, ইতিহাস জানে না, শুধু সবকিছু স্তব্ধ করে দিতে জানে। আমাদের এদের বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।