ফের আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন অস্ট্রেলিয়ায় অভিবাসন প্রত্যাশী

আপডেট : ০৩ মে ২০১৬, ২১:৩৮
অস্ট্রেলিয়ার নাউরু ক্যাম্পে এক শরণার্থী নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। তার অবস্থা গুরুতর। একইভাবে এক ইরানী শরণার্থী মারা যাওয়ার মাত্র দিন কয়েকের মধ্যে নতুন করে এ ঘটনা ঘটলো। — এএফপি
 
অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসনমন্ত্রী পিটার ডাটন বলেন, ঘটনাটি সোমবার ঘটে। ছোট্ট দ্বীপটিতে এ ধরনের ঘটনা বেড়েই চলেছে। কিন্তু তা সত্ত্বেও শরণার্থীদের সেখানে পাঠানো থেকে সরকার পিছপা হবে না। কারণ আমরা লোকজনকে সমুদ্রে ডুবে মরতে দিতে পারি না।
 
শরণার্থীদের পক্ষ নিয়ে যারা কাজ করছে তাদের সমালোচনা করে পিটার বলেন, তারা শরণার্থীদের এ ধরনের কাজে উত্সাহ যোগাচ্ছে। কারণ তাদের ধারনা এতে করে সরকার চাপে পড়ে শরণার্থীদের অস্ট্রেলিয়ায় ঢুকতে দেবে।
 
উল্লেখ্য, ব্যাপক সমালোচনার মধ্যেও অস্ট্রেলীয় সরকার সমুদ্র পথে আসা আশ্রয়প্রার্থীদের প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপ নাউরু ও পাপুয়া নিউগিনিতে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সত্যিকারের শরণার্থী হওয়া সত্ত্বেও তাদেরকে অস্ট্রেলিয়ায় পুনর্বাসনের সুযোগ দেয়া হচ্ছে না। সরকারের যুক্তি, এ ধরনের কঠোরতার ফলে শরণার্থীদের আসা বন্ধ এবং এর মধ্যদিয়ে তাদেরকে সমুদ্রে ডুবে মরার হাত থেকে রক্ষা করা যাবে।
 
এক বিবৃতিতে পিটার জানান, নিজ গায়ে আগুন দেয়া শরণার্থী একজন নারী। তিনি সোমালিয়ার। বয়স ২১ বছর। তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশংকাজনক।
 
এর আগে গত সপ্তাহে ২৩ বছর বয়সী এক ইরানী শরণার্থী নিজে গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। জাতিসংঘের একজন প্রতিনিধির সফরকালে ওমিদ নামের ওই ব্যক্তি একাজ করেন। নাউরু সরকার বলেছে, এটি একটি রাজনৈতিক প্রতিবাদ। মারাত্মক অগ্নিদগ্ধ ওমিদকে হাসপাতালে নেয়া হলে শুক্রবার তিনি মারা যান।
 
অস্ট্রেলিয়ার নীতি অনুযায়ী, শরণার্থীরা পাপুয়া নিউগিনি কিংবা কম্বোডিয়ায় আবাস গড়তে পারবে অথবা তারা নিজ দেশেও ফিরে যেতে পারবে।