যৌন নির্যাতন : শিক্ষককে গণপিটুনি, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ

আপডেট : ০৪ মে ২০১৬, ২০:২২
চুয়াডাঙ্গা ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের শিক্ষক আহাদ আলির বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে।
 
বুধবার সকাল ৯টায় বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করে। এক পর্যায়ে  শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষককে গণধোলাই দেয়।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিদ্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিষয়টিকে কেন্দ্র করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি বৈঠক করে। তবে, যৌন নির্যাতনের স্বীকার ছাত্রীর  অভিযোগ না পাওয়ায় তাৎক্ষণিক কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
 
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাশে ঝিনুক মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় অবস্থিত। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সদর উপজেলার নেহালপুর গ্রামের আহাদ আলি এ বিদ্যালয়ে যোগদান করেন। অভিযোগ উঠেছে চাকরির শুরু থেকেই শিক্ষক আহাদ আলি বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে অশালীন উক্তি করত। আহাদ আলি শুক্রবার স্কুলের দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে প্রাইভেট পড়ার জন্য বাড়িতে আসতে বলে। এ সময় ওই শিক্ষক ছাত্রীকে বাড়িতে একা পেয়ে যৌন নির্যাতন করে। বিষয়টি শিক্ষার্থী বাড়িতে গিয়ে তার অভিভাবককে জানায়। অভিভাবকরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে জানালে ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে বুধবার সকালে জানাজানি হলে শিক্ষার্থীরা অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবিতে ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এ সময় শিক্ষককে গণধোলাই দেয়া হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনের জন্য পুলিশ মোতায়নের পাশাপাশি অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আনজুমানারা, চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ড. এবিএম মাহমুদুল হক,  অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) আব্দুর রাজ্জাক, সহকারী পুলিশ সুপার সুফিউল্লাহ ও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নুরুল ইসলাম বৈঠকে বসেন।
 
পরে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জানান, ভিকটিমের লিখিত অভিযোগ  পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলেই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
 
অভিযুক্ত শিক্ষক আহাদ আলি বলেন, আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়ায় রাজী না হওয়ায় আমার বিরুদ্ধে এ ধরনের অপবাদ দেয়া হচ্ছে।