‘সংসদের হাতে ক্ষমতা থাকলে বিচারকদের করুণাপ্রার্থী হতে হবে’

আপডেট : ০৫ মে ২০১৬, ১৬:১৯

 

উচ্চ আদালতের বিচারকের অপসারণ ক্ষমতা জাতীয় সংসদের হাতে থাকলে বিচারকদের সংসদ সদস্যদের করুণাপ্রার্থী হয়ে থাকতে হবে বলে মত দিয়েছে হাইকোর্ট।

 

বৃহস্পতিবার উচ্চ আদালতের বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা সংসদের হাতে অর্পণ সংক্রান্ত সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী সংয়বিধানের তিন অঙ্গের (নির্বাহী বিভাগ, আইন বিভাগ ও বিচার বিভাগ) ক্ষমতার পৃথকীকরণ নীতির পরিপন্থি বলে রায় দিয়েছে হাইকোর্ট।

 

বিচারপতি মোহম্মদ মঈনুল ইসলাম চৌীধুরী ও বিচারপতি কাজী রেজাউল হক এই রায় দেন। যদিও তিনজন বিচারপতির সমন্বয়ে বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দিয়েছিলেন প্রধান বিচারপতি। কিন্তু বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি আশরাফুল কামাল এই বিচারকের রায়ের সঙ্গে একমত পোষণ করেননি। ফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ মতকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বলে বিবেচিত হয়।

 

হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, সংসদকর্তৃক বিচারকদের অপসারণের বিষয়টি ইতিহাসের দুর্ঘটনা মাত্র। যদিও বিশ্বের কিছু কিছু দেশে এই ধরনের বিধান রয়েছে। রায়ে বলা হয়, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ফলে আমাদের সংসদ সদস্যরা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো ভোট দিতে পারেন না। দল যে সিদ্ধান্ত নেয় তাদের সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে হয়। তারা চাইলেও এর বিরোধিতা করতে পারেন না। এই ধরনের  পরিস্থিতিতে সংসদের হাতে বিচারক অপসারণ ক্ষমতা যদি থাকে তাহলে বিচারকদের সংসদ সদস্যের করুণাপ্রার্থী হয়ে থাকতে হবে।

 

রায়ে বলা হয়, এই মামলার শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষ থেকে যুক্তি দেখানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ কিছু কিছু দেশে সংসদের হাতে বিচারকদের অপসারণ ক্ষমতা রয়েছে। কিন্তু সেসব উন্নত দেশের সংসদের সঙ্গে আমাদের সংসদকে মিলানো ঠিক হবে না।  কারণ, ঐ সব দেশের সংসদ সদস্যরা দলের যেকোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মুক্ত ও স্বাধীনভাবে মত ব্যক্ত করতে পারেন। আমাদের সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে মতো কোনো বিধানও সেসব দেশের সংবিধানে নেই।

 

রায়ে বলা হয়, সংবিধানের ৯৫ (২) অনুচ্ছেদ উচ্চ বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে আইন প্রণয়নের কথা বলা হয়েছে।

 

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড কামলা হোসেন ও ব্যারিস্টার এম আমিরুল ইসলামও অ্যামিকাসকিউ হিসেবে মামলার শুনানিতে বলেছেন, একের পর এক সরকার ক্ষমতায় আসা-যাওয়া করছে। কিন্তু আজ অবধি উচ্চ আদালত বিচার নিয়োগে কোনো আইন প্রণয়ণ করেনি। আমরাও তাদের মতের সঙ্গে সহমত পোষণ করছি।

 

১৬তম সংশোধনীর বিপক্ষে মত দিয়ে অবস্থান ব্যক্ত করে হাইকোর্ট তার রায়ে বলেছে, প্রথমত আমাদের জাতীয় কোনো ইস্যুতে ঐক্যমত নেই। দ্বিতীয়ত, আমদের সমাজ স্পষ্টতই বিভক্ত। তৃতীয়ত, সংসদে যদি কোনো দলের দুই তৃতীয়াংশ যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতা না থাকে তাহলে এই ১৬ তম সংবিধান অকার্যকর থাকবে।

 

শ্রীলঙ্কা মালয়েশিয়াসহ কয়েকটি দেশে সংসদের মাধ্যমে বিচারক অপসারণে ঘটনায় বিচার বিভাগের যে অচল অবস্থা সৃষ্টি হয়েছিল সেটি তুলে ধরে আদালত বলেছে, বাংলাদেশে এই পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটতে পারে এবং এ পরিস্থিতিতে আমরা চোখ বন্ধ করে থকতে পারিনা।