নিজামীর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে খারিজ হওয়ার পর তার আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন সাংবাদিকদের বলেছেন, সর্বোচ্চ আদালতের রায় সবাইকে মানতে হবে। নিজামীর রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ হওয়া নিয়ে কোনো মন্তব্য নেই। তবে ভবিষ্যতের ইতিহাস এই রায় পর্যালোচনা করবে।
তিনি দাবি করেন, নিজামীর বিরুদ্ধে মামলায় যাদের সাক্ষী করা হয়েছে, তারা বানানো সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর ১৯৭২ সালে ১৯৫ যুদ্ধাপরাধীর জন্য এ আইন তৈরি করা হয়েছিল। পরে এ আইনকে বেসামরিক লোকদের জন্য এনে নিজামীকে তার আওতায় বিচার করা হয়েছে। সে অনুযায়ী আদালত রায় দিয়েছেন। তাই এ নিয়ে কিছু বলার নেই।
মতিউর রহমান নিজামী রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন কিনা সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা তার (নিজামী) নিজস্ব বিষয়।
নিজামীর আরেক আইনজীবী এস এম শাজাহান রায়ের পর তাত্ক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের বলেছেন, আইনি লড়াই শেষ। তিনি মার্সি চাইবেন কিনা- এটা তার এবং তার পরিবারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি বলেন, রিভিউর রায়ের কপি প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। এছাড়া কপি পাওয়ার পর প্রাণভিক্ষা চাইবেন কি না, সে বিষয়ে নিজামী নিজেই সিদ্ধান্ত নেবেন। এটি একান্তই তার নিজস্ব ব্যাপার।
পুনর্বিবেচনার রায় কোনো মামলার বিচারিক প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ। আপিল বিভাগ পুনর্বিবেচনার আবেদন খারিজ করায় নিজামীর কাছে এখন সবশেষ সুযোগ হলো রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন। তিনি প্রাণভিক্ষা না চাইলে বা প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ হলে তার দণ্ড কার্যকরের বিষয়টি আসবে। সরকার তখন যেকোনো দিন এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে পারবে।
একাত্তরের হত্যা, ধর্ষণ এবং বুদ্ধিজীবী গণহত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৪ সালের ২৯ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিজামীকে প্রাণদণ্ড দেয়। গত ৬ জানুয়ারি আপিলের রায়েও ওই সাজা বহাল রাখা হলে রিভিউয়ের আবেদন করেন নিজামী।
জামায়াতের আমির নিজামী একাত্তরে ছিলেন দলটির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসংঘের নাজিমে আলা বা সভাপতি এবং সেই সূত্রে পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতার জন্য গঠিত আল বদর বাহিনীর প্রধান। তার পরিকল্পনা, নির্দেশনা ও নেতৃত্বেই যে আলবদর বাহিনী বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়ন করেছিল- এই মামলার বিচারে তা প্রমাণিত হয়।
পাবনা-১ আসন থেকে তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া নিজামীকে ২০০১ সালে মন্ত্রিত্ব দেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া। প্রথমে দুই বছর কৃষি মন্ত্রীর দায়িত্বে থেকে সরকারের পরের তিন বছর ছিলেন শিল্পমন্ত্রীর দায়িত্বে। ওই সময়েই ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার জন্য পাচারের পথে চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র ধরা পড়ে, যে মামলার রায়ে গত বছর নিজামীর ফাঁসির আদেশ হয়। কন্টেইনার ডিপোর ইজারা নিয়ে গেটকো দুর্নীতি মামলারও আসামি সাবেক শিল্পমন্ত্রী নিজামী।
