বিএনপি-জামায়াত জঙ্গি পৃষ্ঠপোষক :প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৬ মে ২০১৬, ০০:৩১
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে তার সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেছেন, বর্তমান সরকার সবসময়ই সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠ। অতীতে বাংলাদেশের মাটিকেও অন্য দেশে সন্ত্রাসী তত্পরতার জন্য ব্যবহার করা হয়। কিন্তু আমরা ক্ষমতায় আসার পরই তা বন্ধ করতে সক্ষম হয়েছি। এখন আর কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের মাটি ব্যবহার করতে পারে না। দেশে বিএনপি-জামায়াতের ৫ বছরের দুঃশাসনে দেশে সন্ত্রাস এবং জঙ্গিবাদের উত্থান হয় উল্লে­খ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি-জামায়াত জোটই এই সন্ত্রাসী জঙ্গিগোষ্ঠীকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়। আর তাদের পৃষ্ঠপোষকতার কারণেই আইন প্রয়োগকারি সংস্থা তাদের (জঙ্গি ও সন্ত্রাসীদের) সুরক্ষা প্রদান করে।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁওস্থ কার্যালয়ে তার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারি পররাষ্ট্র সচিব নিশা দেশাই বিসওয়ালের সৌজন্য সাক্ষাত্কালে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। সাক্ষাত্কালে নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাস দমনে বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরো বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে সন্ত্রাস দমন এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে বাংলাদেশকে সহায়তা করতে চায়। আমরা সন্ত্রাস এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের লড়াইয়ে বিশেষজ্ঞ এবং কারিগরি সহযোগিতা দিতে প্রস্তুত রয়েছি।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড বিষয়ে বলেন, বিশেষ করে ইউএসএআইডি স্টাফ জুলহাস মান্নান, মসজিদের ইমাম, মন্দিরের পুরোহিত এবং গির্জার পাদ্রি-এরা সকলেই ‘সফট টার্গেট’। এসব অমানবিক হত্যাকাণ্ডগুলো ‘ঠান্ডা মাথার খুন’। এসব হত্যাকাণ্ড ঘটানোই হয়েছে বিষয়টিকে আরো উস্কে দেয়ার জন্য। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সহকারি পররাষ্ট্র বিষয়ক সচিবকে সন্ত্রাস বিষয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহেরও অনুরোধ জানান। 
 
যুক্তরাষ্ট্রে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়কে অপহরণ করে হত্যার যে যড়যন্ত্র করা হয়েছিল তা ব্যাহত করে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য নিশা দেশাই বিসওয়ালের মাধ্যমে দেশটির সরকারকে ধন্যবাদ জানান শেখ হাসিনা।
 
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের সহকারি পররাষ্ট্র সচিব বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গুপ্ত হত্যার ঘটনা নিয়ে আলোচনা করেন। বাংলাদেশে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিসওয়াল বলেন, যুক্তরাষ্ট্র এবং বাংলাদেশ সন্ত্রাস এবং উগ্রপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে তথ্য আদান প্রদান করতে পারে। সন্ত্রাস ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত ত্যাগ এবং অভিজ্ঞতার কথা উল্লে­খ করে তিনি বলেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) নিজেও সন্ত্রাসের শিকার, তার পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকেই ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্টের বিয়োগান্তক ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের শিকার হতে হয়।’ এসিস্টেন্ট সেক্রেটারি অব স্টেট দিসওয়াল কমিউনিটি পুলিশকে শক্তিশালী করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সদস্যদের জন্য বাংলাদেশ সরকার গৃহীত নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশন চলাকালে অভিবাসী বিষয়ে একটি উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সাথে কো-চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালনের জন্য আমন্ত্রণ জানান।
 
বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সুরাইয়া বেগম এবং বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্সিয়া ব­ুম বার্নিকাট উপস্থিত ছিলেন।
 
বাংলাদেশের লাইফলাইন জলাভূমি সংরক্ষণ করতে হবে
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জলাভূমিগুলোকে নদীমাতৃক বাংলাদেশের লাইফলাইন হিসেবে উল্লেখ করে পরিবেশের সুরক্ষা এবং অর্থনৈতিক কল্যাণের লক্ষ্যে এগুলোর ভারসাম্যপূর্ণ ব্যবহারের নির্দেশ দিয়ে বলেছেন, বাংলাদেশ নদী-মাতৃক দেশ এবং হাওড়-বাওর ও জলাভূমি হচ্ছে দেশের সম্পদ ও লাইফলাইন। এসব সম্পদকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। হাওড়ে মত্স্য উত্পাদন করে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব।
 
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ে বাংলাদেশ হাওড় ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপদেষ্টা পরিষদের প্রথম সভায় সভাপতিত্বকালে এ কথা বলেন। বৈঠক শেষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন। বৈঠকে অন্যান্যের মধ্যে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, এলজিআরডি মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান, ভূমিমন্ত্রী শামসুল ইসলাম শরীফ, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মুহাম্মদ সাইয়েদুল হক, পরিকল্পনামন্ত্রী এ এইচ এম মুস্তাফা কামাল, বিদ্যুত্-জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী নসরুল হামিদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।