মুখের আলসার চিকিৎসা ও প্রতিকারে করণীয়

আপডেট : ০৬ মে ২০১৬, ০৯:৩৯
 
আমাদের মুখ গহ্বরের ভিতরের অংশ স্বাভাবিকভাবেই ভীষণ সংবেদনশীল। একটু ক্ষত হলেই কষ্টকর হয়ে দাঁড়ায়। খাবার খেতে সমস্যা তো হয়ই, এমনকি পানি বা যেকোনো তরল পদার্থ গ্রহণে প্রচণ্ড ব্যথা অনুভব হয়।
 
শৈশবে ও বয়োসন্ধিতে অ্যাপথাস আলসার দেখা যায়। ছোট ছোট গোলাকৃতির মত যার কেন্দ্রে সাদা বা হলুদ ডট এবং চারপাশে লাল বর্ডার দেখা যায়। এক্ষেত্রে ব্যথা না হলেও ভালো হয়ে যাওয়ার ১ থেকে ৪ সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় দেখা দিতে পারে। এধরনের আলসারে ক্ষত সেরে যাবার পর কোনো দাগ থাকে না।
 
গবেষণায় প্রতীয়মান হয়েছে এক-তৃতীয়াংশ রোগীর কারণ বংশগত। ধূমপান, স্ট্রেস, অতিরিক্ত ঝাল বা মসলাদার খাদ্য গ্রহণ, আঘাত, ফুড এলার্জি অ্যাপথাস আলসারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। খাদ্য তালিকায় আয়রন, ভিটামিন বি, জিংক, আয়োডিনের অভাবে এ রোগ হতে পারে। কখনো কখনো পার্নিসিয়াস এনিমিয়া, ডার্মাটাইটিস হার্পেটিফর্নিস, এইডস, বেহসেট ডিজিজে অ্যাপথাস আলসার উপসর্গ হিসেবে দেখা যায়। কোনো কোনো টুথপেস্ট বা মাউথ ওয়াশে সোডিয়াম লোরিল সালফেট থাকে যা দীর্ঘদিন ব্যবহারে অ্যাপথাস আলসার দেখা দেয়।
 
যে সকল কারণে অ্যাপথাস আলসার হয় সে কারণগুলো এড়িয়ে চললে অ্যাপথাস আলসারকে কন্ট্রোলে আনা যায়। দিনে ২/৩ বার দাঁত ব্রাশ করা জরুরি। তাই নরম গোল মাথার ব্রাশ ব্যবহার করতে হবে। আলসার হলে অতিরিক্ত গরম, ঝাল বা শক্ত খাবার যেমন পটেটো চিপস, টোস্ট, বিস্কিট, গরম চা বা কফি না খাওয়াই ভালো। আয়রন, জিংক ও ভিটামিন বি সমৃদ্ধ খাবার আহার করা উচিত। এরপরও ঘাটতি দেখা গেলে ভিটামিন বি১২ সাপ্লিমেন্ট খেতে হবে। সাধারণত চিকিত্সকরা চিকিত্সার শুরুতে হাইড্রোকর্টিসোন বা ট্রাইঅ্যাসসিনোলন টপিক্যাল স্টেরয়েড দিয়ে শুরু করেন। টেট্রাসাইক্লিন বা ডক্সিসাইক্লিন পানিতে গুলিয়ে দিনে ৩/৪ বার মাউথ ওয়াশ হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
 
ক্লোরহেক্সিডিন মাউথ ওয়াশও ব্যথা উপশমে ভাল ফলদায়ক হয়ে থাকে। উপরোক্ত চিকিত্সাগুলো ব্যথা উপশম ও তাড়াতাড়ি ক্ষত সারানোর জন্য ব্যবহূত হয়। এক্ষেত্রে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট কোনো চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
 
চিকিৎসকরা রোগের উপসর্গ ও জটিলতার উপর ভিত্তি করে এসকল ওষুধ প্রেসক্রাইব করেন। কখনো কখনো স্কিন বায়োপসি করার প্রয়োজন হয়। তাই মুখে কোনো ঘা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেয়া জরুরি।
 
লেখক : চুলপড়া, এলার্জি, চর্ম ও যৌন রোগ বিশেষজ্ঞ