পূর্ব সুন্দরবনে র্যাব-৮-এর একটি দলের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে বনদস্যু বাহিনীপ্রধান মো. আলম খান (৪৫) নিহত হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে ১২টি দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্রসহ দস্যুদের ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার সকালে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগমারী খালে এই বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটে। র্যাব-৮ এর উপ-অধিনায়ক মেজর আদনান কবির বন্দুকযুদ্ধে এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার সংবাদ নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় জেলেদের উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, আলমের বাড়ি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায়। এ ঘটনায় মংলা থানায় মামলা হয়েছে।
উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও সরঞ্জামাদির মধ্যে আছে ৪টি একনলা বন্দুক, দুটি দোনলা বন্দুক, দুটি শটগান, দুটি ওয়ান শুটার গান, দুটি বিদেশী এয়ারগান, দশমিক ২২ বোর রাইফেলের ১১১টি তাজা গুলি, ৩৬টি বন্দুকের তাজা গুলি, এয়ারগানের ৩৯২টি গুলি, ৩৭টি বন্দুকের খালি কার্তুজ, ৫টি রাম দা, গুলি রাখার দুটি তোষদানি, একটি সিমসহ দুটি মুঠোফোন, দুটি টর্চ লাইট, বারো ভোল্ট ব্যাটারি ও প্যানেলসহ একটি সোলার লাইট সেট, চাঁদা আদায়ের পরিমাণ টোকেন ও বিভিন্ন প্রাত্যহিক দ্রব্যাদি।
র্যাব ৮-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল ফরিদুল আলম জানান, সম্প্রতি পূর্ব সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের মৃগমারী, আন্ধারমানিক ও শেলা নদী এলাকায় আলম বাহিনীর অত্যাচার বেড়ে যায়।
এসব এলাকায় জেলে অপহরণ ও ডাকাতির বেশকিছু ঘটনায় আলম বাহিনীর সম্পৃক্ততা র্যাবের নিজস্ব গোয়েন্দা সূত্রসহ বিভিন্ন সূত্র থেকে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এরই ভিত্তিতে শুক্রবার ভোররাতে র্যাব সদস্যরা আলম বাহিনীর সন্ধানে শেলা নদীতে যায়। ভোরে তারা তেতুলবাড়িয়া খালের পাড়ে পলিথিনের ছাউনি বিশিষ্ট একটি আস্তানার সন্ধান পান।
ভোর সোয়া ৬টার দিকে র্যাব সদস্যরা কৌশলগতভাবে সুবিধাজনক স্থানে অবস্থান নেয়ার সময় দস্যুরা তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোঁড়ে। আধাঘণ্টা ধরে বন্দুকযুদ্ধে উভয় পক্ষ প্রায় চারশ' রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। একপর্যায়ে দস্যুরা বনের ভেতরে পিছু হটলে এলাকা তল্লাশি করে মৃগমারী খালের মুখে বনের ভেতরে একটি মৃতদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
