সালথায় রিটার্নিং অফিসারদের বাণিজ্য

আপডেট : ০৭ মে ২০১৬, ১৩:৩১
ফরিদপুরের সালথা উপজেলায় ইউপি নির্বাচনে দায়িত্বরত রিটার্নিং অফিসারদের বিরুদ্ধে অর্থ-বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিটি ইউনিয়নের সব পদের প্রার্থীদের কাছ থেকে এ অর্থ হাতিয়ে নেয়া হয়। সরকার দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কাছ থেকেও নানা ধরণের সমস্যা দেখিয়ে অর্থ আদায় করা হয়েছে।
 
নির্বাচন সংক্রান্ত যে কোনো ধরনের কাজের জন্য রিটার্নিং অফিসারদের কার্যালয়ে গেলে বিভিন্ন সমস্যা দেখিয়ে অর্থের বায়না ধরা হয়।  যেসব প্রার্থী এতে রাজি হন না তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হয়। এ ছাড়া রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ নিয়েও রয়েছে বিতর্ক। উপজেলায় দক্ষ কর্মকর্তা থাকা সত্ত্বেও অদক্ষ কর্মকর্তাদের রিটার্নিং অফিসার পদে নিয়োগ করা হয়েছে।
 
জানা গেছে, পঞ্চম ধাপের ইউপি নির্বাচনে উপজেলার আটটি ইউনিয়নের জন্য চারজন রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। প্রতি রিটার্নিং অফিসার দুটি করে ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করবেন। দায়িত্বরত রিটার্নিং অফিসাররা হলেন, গট্টি ও ভাওয়াল ইউপিতে উপজেলা প্রকৌশলী কাজী সেকেন্দার আলী, আটঘর ও সোনাপুর ইউপিতে উপজেলা নির্বাচন কমিশনার মো. নিজাম উদ্দীন আহম্মেদ, মাঝারদিয়া ও রামকান্তুপুর ইউপিতে উপজেলা সমাজ সেবা কর্মকর্তা সৈয়দ ফজলে রাব্বী নোমান, বল্লভদী ও যদুনন্দী ইউপিতে  উপজেলা  প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার কৃষ্ণ চন্দ্র চবর্তী। উপজেলার প্রথম শেণীর কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি অফিসার ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে বাদ দিয়ে তাদেরকে রিটার্নিং অফিসার পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলার প্রথম শেণীর কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক চেয়ারম্যান ও মেম্বার প্রার্থী অভিযোগ করে জানান, সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা মসজিদ মেরামতসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজে সহযোতিার কথা বলে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক পাঁচ হাজার টাকা করে নেয়। সংরক্ষিত আসনের নারী ও সাধারণ সদস্যদের কাছ থেকে বাধ্যতামূলক এক থেকে দুই হাজার টাকা করে নেয়া হয়। যদিও সরকারি নিয়মানুযায়ী চেয়ারম্যান প্রার্থীরা পাঁচ হাজার টাকা ও সাধারণ সদস্য পদ প্রার্থীরা এক হাজার টাকা করে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। এ ছাড়া  সিডি আপলোড করা বাবদ দুই শ করে টাকা নেয়া হয়।
 
অন্যদিকে মনোনয়নপত্র যাছাই-বাছাইয়ের প্রার্থীদের মনোনয়নপত্রে ঝামেলা দেখিয়ে নানাভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে।
 
উপজেলা চেয়ারম্যান মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, ‘সরকারি নিয়মানুযায়ী ব্যাংকের মাধ্যমে সব প্রার্থী টাকা লেনদেন করবে। আমার জানা মতে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় এবং আগে ও পরে  কোনো ব্যাপারে রিটার্নিং অফিসারদের টাকা নেয়ার নিয়ম নেই। বিষয়টি আমি জানার পর রিটার্নিং অফিসারদের টাকা না নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’
 
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল আজিজ  ব্যস্ততার কথা বলে পরে কথা বলবেন বলে জানান।
 
উপজেলা সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং অফিসাররা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় উপজেলার মসজিদ মেরামত বাবদ কিছু টাকা ধরে নেয়া হয়েছিল। উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে পরে কারো কাছ থেকে আর টাকা নেয়া হয়নি।’