চরফ্যাশন উপজেলায় এক গৃহবধূকে মাটিতে ফেলে সুপারি গাছের সঙ্গে বেঁধে বেধড়ক পেটানোর অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতনের শিকার ওই নারী গত বৃহস্পতিবার থানায় মামলা করেছেন। নির্যাতনের শিকার গৃহবধূর মাটিতে পড়ে থাকা ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ছড়িয়ে পড়েছে, এনিয়ে চলছে নিন্দার ঝড়।
বুধবার উপজেলার নুরাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের নজির মাঝির বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে। স্থানীয়রা নির্যাতনে গুরুতর আহত নুরুন নাহারকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করেছেন। এই ঘটনায় নুরুন নাহার বাদী হয়ে কামরুল ইসলাম কাজলসহ সাত জনকে আসামি করে চরফ্যাশন থানায় মামলা করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নুরাবাদ ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত নজির মাঝির ছেলে কামরুল ইসলাম কাজলের (৩০) সাথে প্রায় এক বছর ধরে পার্শ্ববর্তী এলাকার মো. মনিরের স্ত্রী নুরন নাহারের (২৬) পরকীয়া প্রেম চলছিল। পরকীয়ার বিষয়টি স্বামী মনির টের পেলে নুরুন নাহারকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেন।
নির্যাতিত নুরুন নাহার অভিযোগ করে বলেন, ‘কাজল আমাকে বিয়ে করার আশ্বাস দিয়ে ভোলা, বরিশাল ও ঢাকার বিভিন্ন বাসায় নিয়ে স্ত্রীর মত ব্যবহার করেছে। বধুবার বিয়ের দাবি নিয়ে কাজলের বাড়িতে গেলে কাজল ও তার পরিবারের লোকজন আমাকে সুপারি গাছের সাথে বেঁধে অমানুষিক নির্যাতন করেছে।’
অভিযুক্ত কাজল বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ‘নুরুন নাহার আমার বাড়িতে এসে আমার বোনের মেয়ে নিশিকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাড়ির লোকজন তাকে ধরে মারধর করেছে।’ নুরাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘ঘটনার পর মেয়েটি আমার কাছে এসেছে, আমি তাকে আইনের আশ্রয় নেয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’
চরফ্যাশন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এনামূল হক জানান, এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। পুলিশ আসামি গ্রেফতারে তত্পর রয়েছে। পুলিশ সুপার মো. মনিরুজ্জামানও বলেছেন, অভিযুক্তকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
নুরুন নাহারকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু অভিযুক্ত যুবলীগ নেতা কাজলকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে এজাহারভুক্ত জামাল উদ্দিন গ্রেফতার হয়েছে।
জানা গেছে, এর আগে চরমাদ্রাজ ইউনিয়নের একটি মেয়ের সাথে বিয়ের নামে প্রতারণা করায় কাজলকে আসামি করে শাহিনুর আদালতে মামলা করেছেন, যা বর্তমানে বিচারাধীন।
