সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতা
স্বামী মারা গেছেন ১০ বছর হলো। বাধ্য হয়ে অন্যের বাড়িতে ঝিয়ের কাজ করতে হচ্ছে রশীদা বেওয়াকে (৬৫)। এখনও মেলেনি একটি বয়স্ক বা বিধবা ভাতার কার্ড। তিনি জানেন না বেঁচে থাকতে সরকারের দেওয়া ওই সুবিধা পাবেন কিনা। সৈয়দপুরের বাঙালিপুর ইউনিয়নের লক্ষণপুর গ্রামে একটি জীর্ণ কুটিরে রশীদা বেওয়ার বসবাস। সংসারে দুই ছেলেও আছে তার। কিন্তু তারা গরিব ও দিনমজুর।
রশীদা বেওয়া জানান, বয়স হয়েছে, শরীরও চলে না। তবুও নিজের খাবার জোটাতে কষ্ট করে ঝিয়ের কাজ করছি। এখন চোখেও কম দেখি। তাই কাজ করতে অনেক কষ্ট হয়। অনেকবার ইউপি সদস্য ছাবেদ আলী ও নারী সদস্য রাশেদা বেগমকে বলেছি- একটি কার্ড করে দিতে, বয়স্ক বা বিধবার। কিন্তু ওরা টাকা চায়। দিতে পারিনি বলে কার্ড হয়নি। বেঁচে থাকতে ওই কার্ড পাবো কিনা জানি না। এদিকে ইউপি সদস্য ছাবেদ আলী টাকা চাওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, অফিসে কিছু খরচ লাগে। এটি দিতে বলেছি। না দিলে কিভাবে তার কার্ড হবে। বাঙালিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রাণোবেশ বাগচী জানান, রশীদা বেওয়া যাতে কার্ড পায় এ ব্যাপারে সুপারিশ করা হবে। সৈয়দপুর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা হাওয়া খাতুন বলেন, ভাতা দেওয়ার তালিকা উন্মুক্ত ও স্বচ্ছভাবে করা হয়। অফিস খরচ নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। আমাদের কথা বলে কেউ টাকা চাইলে তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর রশীদা বেওয়ার ভাতা পাওয়ার ব্যাপারটি আমরা বিশেষভাবে দেখবো।
