পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেছেন, দেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিবেশ দূষণ রোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, পরিবেশ মন্ত্রণালয় এবং অধিদফতরের পরিচালিত কর্মকাণ্ডের ফলে সারাদেশের মানুষের মধ্যে পরিবেশ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি হয়েছে। এরপরও পরিবেশ দূষণ বন্ধ করতে হলে আমাদের দেশের জনগণের জীবনধারায় পরিবর্তন আনতে হবে। একমাত্র অর্থনৈতিক উন্নয়নসাধনের মাধ্যমে এটি সম্ভব।
রবিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এসব কথা বলেন। এনফোর্সমেন্ট, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও শিল্প কারখানায় ইটিপি স্থাপনসহ সার্বিক কার্যক্রমের বিষয়ে এ কর্মশালার আয়োজন করে পরিবেশ অধিদফতর। অনুষ্ঠানে শিল্প কারখানার মালিকরা তাদের নানাবিধ সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, আমাদের জীবন প্রণালী পরিবেশ দূষণের জন্য অনেকটা দায়ী। নদী-নালা খাল-বিলের ওপর রেস্টুরেন্ট বসানো হচ্ছে। সেখান থেকে বর্জ্য ফেলা হচ্ছে নদীতে। লঞ্চ, স্টিমার থেকেও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এর ফলে নদীগুলো দূষিত হয়ে পড়ছে। এজন্য অামাদের জীবনধারার পরিবর্তনের পাশাপাশি কর্মপরিকল্পনায়ও পরিবর্তন আনতে হবে।
তিনি বলেন, অনেকে রাস্তাঘাটে যত্রতত্র ময়লা ফেলে। এমনকি ধানমন্ডি, গুলশান এবং বারিধারার রাস্তায়ও ময়লা পড়ে থাকতে দেখা যায়। এসব এলাকার অনেক উঁচু ভবনে একশ’র মতো পরিবার থাকে। কিন্তু এসব ভবনের ময়লা সঠিকভাবে ফেলা হয় না। বিষয়টির দিকে আমাদের নজর দিতে হবে।
তবে এ বিষয়ে এখন সচেতনতা আসছে উল্লেখ করে আনোয়ার হোসনে মঞ্জু বলেন, পরিবেশ বিষয়ক কর্মকাণ্ড চলার কারণে গ্রামের মানুষও এখন মনে করে যত্রতত্র ময়লা ফেলা যাবে না।
পরিবেশ বিষয়ক বিভিন্ন আইনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব আইনের যে একেবারে দুর্বলতা নেই সেকথা বলা যাবে না। সুবিচার এবং বিচার দুই থাকবে। এজন্য বিভিন্ন আইনে আপিলের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তবে যে কোন আইন, নির্দেশ বাস্তবধর্মী হবার প্রয়োজন রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক রইছউল আলম মন্ডল।
