বাহুবলে চার শিশু হত্যা: ৫ আসামির জামিন নামঞ্জুর

আপডেট : ১০ মে ২০১৬, ১৫:০১
হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলায় চার শিশু হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
 
মঙ্গলবার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. কাউছার আলমের আদালত এ আবেদন নামঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মামলার চার্জসিট গ্রহণ না করে শুনানির পরবর্তী দিনক্ষণ ২৫ মে  নির্ধারণ করেন বিচারক।
 
বাদী পক্ষের আইনজীবী তকদির মোহাম্মদ বেনজীর জনাব জানান, দুইজন আসামির জামিন আবেদন জেলা জজ আদালতে শুনানির অপেক্ষায় আছে। এটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন আদালতে চার্জসিটের উপর শুনানি করা যায়না।
 
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ওই উপজেলার সুন্দ্রাটিকি গ্রামের আলোচিত চার শিশু হত্যা মামলায় মঙ্গলবার কারাগারে আটক জুয়েল মিয়া, রুবেল মিয়া, সাহেদ আলী ওরফে সায়েদ, বশির আহমেদ ও সালেহ আহমেদের জামিন আবেদন করেন তাদের আইনজীবী। শুনানি শেষে বিচারক এ আবেদন নামঞ্জুর করেন। এছাড়া কারাগারে আটক মামলার অন্যতম আসামি আব্দুল আলী বাগাল ও তার সহযোগী হাবিবুর রহমান আরজু জেলা জজ আদালতে জামিন আবেদন করেন। এ আবেদন আগামী ১৭ মে শুনানির জন্য দিন ধার্য করা হয়েছে। এ অবস্থায় নিম্ন আদালতে চার্জসিটের শুনানি করা সম্ভব নয়। যে কারণে বিচারক অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন আগামী ২৫ মে ধার্য করেছেন।
 
উল্লেখ্য, সুন্দ্রাটিকি গ্রামের জাকারিয়া শুভ (৮), তার চাচাতো ভাই মনির মিয়া (৭), তাজেল মিয়া (১০) ও ইসমাইল হোসেন (১০) ১২ ফেব্রুয়ারি গ্রামের পার্শ্ববর্তী মাঠে খেলা দেখতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। ১৭ ফেব্রয়ারি বাড়ির অদূরে একটি বালুর ছড়া থেকে মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় তাদের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় দেশে বিদেশে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় মামলার তদন্তভার পান ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুকতাদির হোসেন। তিনি ৪৮ দিন তদন্ত শেষে নয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসিট জমা দেন। অভিযুক্তরা হলেন, আব্দুল আলী বাগাল, তার ছেলে জুয়েল মিয়া ও রুবেল মিয়া, ভাতিজা সাহেদ আলী ওরফে সায়েদ, অন্যতম সহযোগী হাবিবুর রহমান আরজু, সিএনজি অটোরিকশা চালক বাচ্চু মিয়া, উস্তার মিয়া, বেলাল মিয়া ও বাবুল মিয়া। এর মাঝে সিএনজি অটোরিকশা চালক বাচ্চু মিয়া র‌্যাবের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে মারা যাওয়ায় এবং ঘটনায় সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় গ্রেফতারকৃত সালেহ আহমেদ ও বশির আহমেদকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদন করা হয়। অভিযুক্তদের মাঝে পলাতক রয়েছে উস্তার, বেলাল ও বাবুল।