জিনজিয়াংয়ে আটক ১৩ হাজার উইঘুরকে ‘সন্ত্রাসী’ বলল চীন

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৯, ২১:৩৩

বিবিসি ও রয়টার্স

চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে ২০১৪ সাল থেকে  প্রায় ১৩ হাজার ‘সন্ত্রাসীকে’ আটক করার কথা জানিয়েছে চীনা কর্তৃপক্ষ। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলো বলছে আটককৃতরা উইঘুর মুসলিম সম্প্রদায়ের লোক। প্রসঙ্গত, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিটির জাতিগত বৈষম্য বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছিল, চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটকে রাখা হয়েছে।

চীন সরকারের এক শ্বেতপত্রে সোমবার দাবি করা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে জিনজিয়াংয়ে প্রায় ১৩ হাজার ‘সন্ত্রাসীকে’ গ্রেফতার করা হয়েছে। উইঘুর মুসলমানদের আটক রাখা নিয়ে আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সমালোচনার মুখে ওই শ্বেতপত্রটি প্রকাশ করে বেইজিং। চীনা কর্তৃপক্ষ বলছে, জিনজিয়াংয়ে উগ্রপন্থার হুমকি মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শ্বেতপত্রে দাবি করা হয়েছে, ২০১৪ সাল থেকে এ পর্যন্ত জিনজিয়াংয়ে তারা এক হাজার ৫৮৮টি সন্ত্রাসী গ্যাং গুঁড়িয়ে দিয়েছে। গ্রেফতার করা হয়েছে ১২ হাজার ৯৯৫ সন্ত্রাসীকে। এছাড়া দুই হাজার ৫২টি বিস্ফোরক ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। অবৈধ ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের জন্য ৩০ হাজার ৬৪৫ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে তিন লাখ ৪৫ হাজার ২২৯ কপি ধর্মীয় উপাদান বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

এদিকে নির্বাসিত উইঘুরদের সংগঠন ওয়ার্ল্ড উইঘুর কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই শ্বেতপত্রটি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। সংগঠনের মুখপাত্র দিলশাদ রক্ষিত এক বিবৃতিতে বলেন, চীন ইচ্ছাকৃতভাবে প্রকৃত ঘটনাকে বিকৃত করছে।

২০১৮ সালের আগস্টে জেনেভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির দুইদিনের বিশেষ সভায় চীনে উইঘুরদের বন্দিশিবিরে আটকে রাখার বিষয়টি উঠে আসে। সভায় জাতিসংঘ মানবাধিকার বিষয়ক কমিটির জাতিগত বৈষম্য বিষয়ক সংস্থা জানায়, চীনে ১০ লাখ উইঘুর মুসলিমকে আটকে রাখা হয়েছে। চীনের পক্ষ থেকে উইঘুর বন্দিশিবিরগুলোকে কারাগার হিসেবে স্বীকার করা হয় না। বেইজিংয়ের দাবি- ছোটখাটো অপরাধের জন্য আটক রেখে তাদের বৃত্তিমূলক শিক্ষা দেওয়া হয়।