টাঙ্গাইলের এক ব্যবসায়ীকে দেয়া অর্পিত সম্পত্তির লিজ বাতিল করে ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী নেতার নামে লিজ বরাদ্দ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। শহরের পাঁচআনি বাজারের ব্যবসায়ী নবকুমার চক্রবর্তীর নামে দেয়া লিজ বাতিল করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুকের নামে নতুন করে এই লিজ বরাদ্দ দেয়া হয়।
এনিয়ে গত রবিবার বিকেলে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করার মাধ্যমে সরকারের কাছে প্রতিকার দাবি করেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী নবকুমার চক্রবর্তী। এর আগে টাঙ্গাইলের প্রথম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে এ ব্যাপারে মামলা দায়েরও করেন তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে নবকুমার চক্রবর্তীর লিখিত বক্তব্য ও আদালতে দায়ের করা মামলার আরজি থেকে জানা যায়, নবকুমারের পিতা রামপদ চক্রবর্তী ১৯৮০ সালে পাঁচআনি বাজারের অর্পিত সম্পত্তির পৌনে দুই শতাংশ ভূমি (৬০০ বর্গফুট) জেলা প্রশাসন থেকে লিজ নিয়ে নিজ অর্থ ব্যয়ে দোকানঘর নির্মাণ করে ব্যবসায় পরিচালনা করে আসছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তিনি পিতার স্থলবর্তী হিসেবে নিজ নামে লিজটি নবায়ন করে পিতার ব্যবসায় অব্যাহত রাখেন।
গত ১৯ এপ্রিল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) এক চিঠির মাধ্যমে তার (নবকুমার) নামে বরাদ্দকৃত লিজ বাতিল করে ফজলুর রহমান খান ফারুকের বরাবরে লিজ প্রদান করেন। তিনি এই আদেশের বিরুদ্ধে গত ৪ এপ্রিল দেওয়ানী আদালতে মামলা করাসহ তাকে যাতে তার লিজপ্রাপ্ত ভূমি থেকে উচ্ছেদ করতে না পারে সে ব্যাপারে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনা করলে আদালত মামলার বিবাদী জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ফজলুর রহমান খান ফারুকের প্রতি ১০দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন।
নোটিশ জারির পর বিবাদীরা এখন পর্যন্ত জবাব না দিলেও গত শনিবার একদল লোক বাদি নবকুমার চক্রবর্তীর দোকানঘরটি ভাঙচুর করে সরিয়ে নেয় এবং দোকানের মালামাল লুট করে বলে নবকুমার সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে উল্লেখ করেন। এসময় সন্ত্রাসীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলেও তিনি জানান।
উল্লেখ্য, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মুনিরা সুলতানা স্বাক্ষরিত গত ১৯ এপ্রিলের চিঠিতে বলা হয়েছেÑ ‘নি¤œ তফসীল বর্ণিত সম্পত্তি ১৪০৮-১৪২৩ বঙ্গাব্দের জন্য শ্রী নবকুমার চক্রবর্তী, পিতা- রামপদ চক্রবর্তী, পাঁচআনী বাজার, উপজেলা-টাঙ্গাইল সদর, জেলা টাঙ্গাইল-এর নামীয় লিজ বাতিল করে ফজলুর রহমান ফারুক, পিতা-আ. হালিম খান, সাং-থানা পাড়া, উপজেলা-টাঙ্গাইল সদর, জেলা-টাঙ্গাইল-এর বরাবরে একসনা ইজারা প্রদান করা হলো। এতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের সদয় অনুমোদন রয়েছে।’
এই ঘটনায় টাঙ্গাইলে ব্যবসায়ী মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কেউ কেউ তাদের আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন।
জেলা এডভোকেট বার সমিতির সাবেক সভাপতি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি এডভোকেট আব্দুর রাজ্জাক তার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করে বলেন, জেলা প্রশাসনের উপর অন্যায় প্রভাব খাটিয়ে জেলা দলের শীর্ষ নেতার এ ধরণের কাজ প্রশাসন ও দলের ভাবমূর্তিকে ক্ষুণœ করেছে। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের উপর এ ধরনের অন্যায়-অত্যাচার অত্যন্ত নিন্দনীয়।
