উজিরপুরে স্বাধীনতার ৪৪ বছর পরেও মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাননি মুক্তিযোদ্ধা আবুবক্কর(৭০)।মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয় সহ বিভিন্ন কর্মকর্তাদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অবশেষে অর্ধাহারে অনাহারে নিজের ভাঙা কুটিরে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে সারা দিয়ে বরিশাল জেলার উজিরপুর উপজেলার ইচলাদী গ্রামে আব্দুল গণি ফকিরের পুত্র যৌবনে পদার্পন করে সেদিন ঝাপিয়ে পরেছিলেন স্বাধীনতা যুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে। ৯ নং সেক্টর কমান্ডার মেজর এম.এ জলিলের নেতৃত্বে ভারতের বিহার প্রদেশের চাকুলীয়া দিলেম্বু কেন্দ্রে ১ মাস ২ দিন প্রশিক্ষণ শেষ করে দেশে এসে সাব-সেক্টর কমান্ডার ক্যাপ্টেন হুদা ও ক্যাপ্টেন বেগ এবং উপজেলা কমান্ডার আব্দুল ওয়াদুদ সরদারের নেতৃত্বে জীবনকে বাজি রেখে সাতক্ষিরা জেলার পারুলিয়া, দেবহাটা, কালিগঞ্জ, হোমরা, এলাকায় সন্মূখ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে রাইফেল ৩০৩, ষ্টেনগান, হ্যান্ডগ্রেড, এল.এম.জি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে পাক হানাদার বাহিনীকে পরাস্থ করে ঐ এলাকা শত্রুমুক্ত হয়।
দেশ স্বাধীনতার পরে সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক কর্ণেল আতাউল গণি ওসমানির স্বাক্ষরিত দেশ রক্ষা বিভাগ, স্বাধীনতা সংগ্রামের সনদপত্র গ্রহণ করে বিভিন্ন অফিসের দরজায় ঘুরে ঘুরে আজও মেলাতে পারেননি মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। পাননি কোন মুক্তিযোদ্ধা ভাতা।
ইত্তেফাক সংবাদদাতা মুক্তিযোদ্ধা আবুবক্করের বাড়িতে গিয়ে স্বাক্ষাৎ পান। রোগে শোকে অসুস্থ প্রায় বৃদ্ধ মুক্তিযোদ্ধা তার পিতার তৈরি একটি ভাঙা ঘরের বারান্দায় স্ত্রীকে নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।
সাংবাদিক দেখে লাঠিতে ভর করে কেঁদে কেঁদে বলছে আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে মিনতী করছি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পেয়ে যেন মৃত্যুবরণ করতে পারি।
এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল ওয়াদুদ সরদার ডেপুটি কমান্ডার হারুন অর রশিদ ও মুক্তিযোদ্ধা আক্রাম হোসেন জানান, আবুবক্কর ফকির একজন সক্রিয় মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। ভূলবশত ভারতীয় তালিকায় নাম না থাকায় রাষ্ট্রীয় সনদ পায়নি। তবে তার ব্যাপারে সুপারিশ করে তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে, এখন পর্যন্ত কোন সিদ্ধান্ত হয়নি।
