জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কৃষিকাজের উপরেও প্রভাব পড়ছে, এ বিষয়ে সন্দেহ নেই| ইউরোপে বড় আকারে এক গবেষণাক্ষেত্রে হাতেনাতে সেই পরিবর্তনের বিভিন্ন দিক বোঝার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা|খবর ডয়চেভেলের
এক বিশাল ক্ষেতে প্রত্যেক মওসুমে প্রায় ১০ লাখ কিলোগ্রাম পরিমাণ পালং বা লেটুসের মতো পাতা উত্পাদন হয়| জলবায়ু পরিবর্তন কীভাবে শস্য উত্পাদনের উপর প্রভাব ফেলতে পারে, তা বোঝার জন্য এই ক্ষেত্র গবেষকদের কাছে খোলা আকাশের নিচে এক গবেষণাগারের মতো| জলবায়ু সংক্রান্ত বর্তমান মডেল সঠিক প্রতিপন্ন হলে ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চলে অদূর ভবিষ্যতে পানির মারাত্মক অভাব দেখা যাবে| এমনটা ঘটলে কৃষিপণ্যের উত্পাদন ও তার মানের উপর কী প্রভাব পড়বে, বিজ্ঞানীরা তা জানতে চান| খাদ্য বিষয়ক মাইক্রোবায়োলজিস্ট মাবেল গিল বলেন, ‘‘২৫ শতাংশ কম পানি ব্যবহার করে সেচের কাজ করলে আদতে সুবিধাই হবে বলে আমাদের ধারণা| কম পানি ব্যবহার করলে পরিবেশের উপকার হবে| তাছাড়া এর ফলে কিছু শাকসবজি আরো বেশিদিন তাজা থাকবে|”
গবেষকদের ধারণা, বিভিন্ন পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে পানির অভাব পূরণ করা সম্ভব| গাছপালার উপর এই অবস্থার প্রভাব তারা খতিয়ে দেখছেন| মাবেল গিল মনে করেন, ‘‘কিছু প্রজাতি খরা ও পানির অভাব আরো ভালোভাবে সামলাতে পারে| ভিন্ন ধরনের পুষ্টির উপাদানও সৃষ্টি করা যেতে পারে| যেমন কৃষিপণ্যের মান বাড়াতে সারের মধ্যে আরো নাইট্রোজেন যোগ করা যায়| শোধনাগারের মতো পানির বিকল্প উত্স ব্যবহার করাও সম্ভব কিনা, তাও আমরা খতিয়ে দেখছি| সেচ ব্যবস্থায় এমন পানি ব্যবহার করলে শাকসবজি নিরাপদ হবে কিনা, সেগুলি কত সময় তাজা থাকবে সে সবও আমরা দেখতে চাই|”
ফসল তোলার আগে ও পরে প্যাথোজেন, টক্সিন, কীটনাশক ও অন্যান্য বিষয় শাকসবজির নিরাপত্তা ও মানের উপর কত প্রভাব ফেলে, বিজ্ঞানীরা সেই প্রশ্নেরও উত্তর চান| পরিবর্তনশীল জলবায়ুর ফলে সমস্যাগুলিও কীভাবে বদলে যাবে, সেটাও বড় প্রশ্ন| ইউরোপের দক্ষিণাঞ্চল কি আরো শুষ্ক হয়ে উঠবে এবং উত্তরে তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত বাড়বে। ফুড মাইক্রোবায়োলজিস্ট আনা আলেন্দে বলেন, ‘‘আমাদের মনে হয়েছিল, আর্দ্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কৃষিপণ্যের মান ও নিরাপত্তাও বাড়বে; কিন্তু এখন আমরা জানি, যে আর্দ্রতা আসলে কিছু ধরনের প্যাথোজেনকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করে| তাই আমরা বাতাসে আর্দ্রতার মাত্রা একটু কমানোর পক্ষে বলছি| এই সব কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণের সময়ে সেই মাত্রা ৯৫ থেকে ৯৬ শতাংশের নিচে আনতে হবে|”
