খাগড়াছড়িতে শিশুকে গলাটিপে হত্যা, গ্রেফতার ৪

আপডেট : ১০ মে ২০১৬, ১৯:৪৬
খাগড়াছড়ির জেলার গুইমারা উপজেলার বড় পিলাক এলাকায় আবু ইউছুফ রানা(১০) নামে এক শিশুর লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সে ঐ এলাকার সাজেদুর রহমানের ছেলে। মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার বড়পিলাক এলাকার সেগুন বাগান থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
 
পুলিশের ধারণা, শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। খেলায় দুই শিশুর মধ্যে মারপিটের জেরে এই হত্যাকান্ড বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করেছে গুইমারা থানার পুলিশ। এরা হলেন রমজান আলী, হাজেরা বেগম ও ফাতেমা বেগম ও সাদেক।
 
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার বিকালে গুইমারা উপজেলার পশ্চিম বড়পিলাক এলাকায় খেলাধুলার মাঝে আবুল কাশেমের ছেলে হাফিজুর রহমান হৃদয়(১০) ও সাজেদুর রহমানের ছেলে  আবু ইউছুফ রানা(১০)  হঠাৎ  ধাক্কাধাক্কিতে লিপ্ত হয়। ধাক্কাধাক্কির এক পর্যায়ে হাফিজুর রহমান হৃদয় মাটিতে পড়ে গেলে তার ডান হাতটি ভেঙ্গে যায়। ছেলের হাত ভেঙ্গে যাওয়ার খবর পেয়ে হৃদয়ের  বাবা, মা, খালা ও মামাসহ আত্মীয় স্বজনরা ক্ষুব্দ হয়ে আবু ইউছুফ রানাকে মারধর করতে খুঁজতে থাকে। স্থানীয় জনৈক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, হৃদয়ের আত্মীয় স্বজনরা রানাকে ধরতে পিছু ধাওয়া করে আরে মারমার সেগুন বাগানের দিকে নিয়ে যায়।
 
রানার বাবা সাজেদুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে তারা সোমবার ঘটনার পর পরই রানাকে খুঁজতে বের হন। সন্ধ্যার পর রাতেও ছেলের কোন সন্ধান না পেয়ে সাজেদুর রহমান গুইমারা থানায় গিয়ে ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করেন।
 
তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে আরে মারমার সেগুন বাগানে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে একটি গর্তের ওপর শুকনো পাতার স্তুপ দেখে সন্দেহ হলে পাতাগুলো সরাতেই শিশু রানার লাশ বেরিয়ে আসে। পরে গুইমারা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে লাম উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
 
গুইমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, খেলাধুলায় ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে গিয়ে হৃদয়ের হাত ভেঙ্গে যাওয়ার ঘটনার জের ধরে শিশুটিকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে।
 
তিনি বলেন, এই ঘটনায় নিহত শিশু আবু ইউছুফ রানার পিতা সাজেদুর রহমান বাদী হয়ে মঙ্গলবার গুইমারা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। ওসি বলেন, এ ঘটনায়  শিশু হৃদয়ের মা হাজেরা বেগম, খালা ফাতেমা বেগম, খালু রমজান আলী ও প্রতিবেশি সাদেককে পুলিশ গ্রেফতার করা হয়। হৃদয়ের পিতা আবুল কাশেমসহ তার আত্মীয়স্বজনরা গা ঢাকা দিয়েছে।