তনু হত্যায় দুই সেনা সদস্য

আপডেট : ১১ মে ২০১৬, ১০:৩৮
 
কুমিল্লায় কলেজ ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যায় দুই সেনা সদস্য জড়িত বলে দাবি করেছেন তার মা আনোয়ারা বেগম। একজন সার্জেন্ট ও একজন সিপাহীর নাম উল্লেখ করে তিনি বলেছেন, ‘তাদের দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই তনু হত্যার সবকিছু বেরিয়ে আসবে।’
 
গতকাল মঙ্গলবার বিকালে সিআইডির কুমিল্লা কার্যালয়ে প্রবেশের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন। তনুর মা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘সেনাবাহিনীর লোকে তনুকে মারছে। সেনানিবাসের অনুষ্ঠানে গান না করে পিকনিকে চলে যাওয়ায় তার মেয়েকে হত্যা করা হয়েছে। চুল কেটে প্রতিশোধ নেয়া হয়েছে। সেনানিবাসের রাস্তা ও সিসি ক্যামেরা তিন ঘণ্টা বন্ধ রেখে তার মেয়ের লাশ বাড়ির কাছে এসে ফেলে গেছে সেনাবাহিনীর সদস্যরাই।’
 
এসময় সিআইডির তদন্ত কর্মকর্তার কর্মকাণ্ডে ক্ষোভ প্রকাশ করে তনুর বাবা কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের অফিস সহায়ক ইয়ার হোসেন বলেন, ‘তারা আমাদের বার বার হয়রানি করছে এবং জিজ্ঞাসাবাদের নামে বিব্রত করছে। সিআইডি কার্যালয়ে বার বার ডেকে এনে আমাদের একই বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে; কিন্তু হত্যার রহস্য উদঘাটন বা ঘাতকদের শনাক্তে এ পর্যন্ত কোনো অগ্রগতি দেখাতে পারেনি।’
 
তনুর বাবা-মাসহ ১০ জনকে  জিজ্ঞাসাবাদ: এর আগে সকালে তনু হত্যা মামলা তদন্তে গতকাল ফের কুমিল্লায় আসে সিআইডি ঢাকার তদন্ত সহায়ক দল। বিকালে তনুর বাবা-মা ছাড়াও ভাই আনোয়ার হোসেন, চাচাতো বোন লাইজু জাহান, সহপাঠী কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র মাহমুদুল হাসান, শামীম ও স্থানীয় শিল্পী সোনিয়া সাহা ওরফে শান্তা, সারোয়ার আহমেদ রাসেল, নূরুল ইসলাম খোকনসহ ১০ জনকে সিআইডি কার্যালয়ে ডেকে আনা হয়। বিকাল ৩টা থেকে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলেও রাত ৯টায় এ রিপোর্ট লেখা ্পর্যন্ত তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছিল।
 
এ বিষয়ে সিআইডি-কুমিল্লার বিশেষ পুলিশ সুপার ড. নাজমুল করিম খান সাংবাদিকদের জানান, ‘মামলার রহস্য উদঘাটনে জিজ্ঞাসাবাদ একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা দেশবাসীকে যত দ্রুতসম্ভব এ মামলায় আলোর মুখ দেখাতে চাই। তদন্তের স্বার্থে তনুর বাবা-মাসহ অন্য লোকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
 
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ রাতে কুমিল্লা সেনানিবাসে বাসার অদূরে একটি জঙ্গল থেকে তনুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন ২১ মার্চ তনুর বাবা কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় অজ্ঞাতদের নামে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তনু হত্যা মামলাটি প্রথমে পুলিশ, পরে ডিবি হয়ে সিআইডির হাতে যায়। এই হত্যার প্রতিবাদে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়; কিন্তু হত্যাকাণ্ডের ৫২ দিন অতিবাহিত হলেও এ পর্যন্ত ঘাতকদের কেউ গ্রেফতার বা শনাক্ত হয়নি। এছাড়া তনুর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের পর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন গত ৪২ দিনেও দাখিল করতে পারেননি ময়নাতদন্তকারী কর্মকর্তারা।