পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে এ মাসেই চুক্তি

আপডেট : ১১ মে ২০১৬, ১১:০৫
 
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণে চলতি মাসেই রাশিয়ার সঙ্গে ঋণচুক্তি করবে সরকার। দেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণের খরচ ১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার প্রায় ৯০ শতাংশই ঋণ হিসাবে দিবে রাশিয়া। তবে আগামী ১০ বছরে এ ঋণ শোধ করতে হবে না। পরবর্তী ১৮ বছরে কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ বিক্রির অর্থ থেকে ঋণ শোধ করা হবে। 
 
প্রসঙ্গত, দেশি-বিদেশি সহায়তায় বাস্তবায়িত প্রকল্পগুলোর মধ্যে এটিই হবে প্রথম প্রকল্প; যার ঋণ বার্ষিক উন্নয়ন বরাদ্দ থেকে পরিশোধ না করে সরাসরি প্রকল্পের উৎপাদন-লভ্যাংশ থেকে পরিশোধ করা হবে।
 
গত শনিবার অনুষ্ঠিত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের কারিগরি কমিটির সভা সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। সভাশেষে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, রূপপুর প্রকল্পটি বাস্তবায়নে প্রায় ১৩ বিলিয়ন ডলার খরচ হবে। বর্তমানে দেশের মোট ঋণের পরিমাণ ২৬ বিলিয়ন ডলার। রিজার্ভের পরিমাণ প্রায় ২৯ বিলিয়ন ডলার। ঋণের অর্থ যখন শোধ করতে হবে তখন আমাদের অর্থনীতির আকার অনেক বড় হয়ে যাবে। তাই ঋণের পরিমাণ বেশি হলেও তা শোধ করতে সমস্যা হবে না। তিনি বলেন, ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটের বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি থেকে সর্বোচ্চ সাড়ে তিন টাকায় প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুত্ পাওয়া যাবে। বিদ্যুতের বিক্রয়মূল্য থেকে ঋণের অর্থ শোধ করা হবে। এছাড়া কেন্দ্রটি নির্মাণের মাধ্যমে প্রায় ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে।
 
পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় অনুষ্ঠিত ওই সভায় প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সঙ্গে জড়িত ১৮টি মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার সচিবসহ কর্তাব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন। সভায় কেন্দ্রটির নির্মাতা রাশিয়ার রাষ্ট্রমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের প্রতিনিধিরা কাজের অগ্রগতি তুলে ধরেন।
 
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেন, চলতি মে মাসেই ঋণচুক্তিটি স্বাক্ষরিত হবে। ১৭ থেকে ২০ তারিখের মধ্যেই এটি হতে পারে। তিনি বলেন, বিদ্যুত্ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিটটি ২০২৪ সালে উত্পাদনে আসার কথা। তবে দেশের স্বাধীনতার ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২০২১ সালেই এর প্রথম ইউনিটটির নির্মাণ শেষ করার ব্যাপারে রাশিয়া আমাদের আশ্বস্ত করেছে।
 
বিদ্যুত্ কেন্দ্র নির্মাণ প্রকল্পের পরিচালক ও নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. শৌকত আকবর বলেন, কয়েকটি পর্যায়ে বিদ্যুত্ কেন্দ্রটি নির্মিত হবে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের কাজ প্রায় শেষ। মূল কেন্দ্রের ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ কাজ শুরু হবে ২০১৭ সালের আগস্টে।
 
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২৫ ডিসেম্বরে এই বিদ্যুেকন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং রাশিয়ার অ্যাটমস্ট্রয় এক্সপোর্টের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী, কেন্দ্রটির নির্মাণ খরচের ১২ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের (১ লাখ ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা) মধ্যে ১১ দশমিক ৬৫ বিলিয়ন ঋণ সহায়তা হিসাবে দিবে রাশিয়া। বাকি ১ বিলিয়ন ডলার যোগান দিবে বাংলাদেশ সরকার। ওই সাধারণ চুক্তিটি ঋণ চুক্তি স্বাক্ষরের পরে কার্যকর হবে।
 
আইন অনুযায়ী, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্রের মালিকানা থাকবে বাংলাদেশ আণবিক শক্তি কমিশনের হাতে। আর কেন্দ্রটি পরিচালনার দায়িত্ব পাবে ‘নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্লান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ’। কেন্দ্রটির লাইফ টাইম বা জীবনসীমা হচ্ছে ৫০ বছর। এই কেন্দ্রের তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাশিয়াই ফেরত নিয়ে যাবে।
 
মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, ১৯৬১ সালে পরমাণু বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়ার পর ১৯৬৩ সালে প্রস্তাবিত ১২টি এলাকার মধ্য থেকে বেছে নেয়া হয় পাবনার রূপপুরকে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পারমাণবিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র স্থাপনের জন্য প্রায় ৫০ বছর আগের নেয়া সেই উদ্যোগ সক্রিয় করে তোলা হয়। তখন প্রকল্পটির জন্য অধিগ্রহণকৃত ২৬২ একর জমিতেই কেন্দ্রটির মূল কমপ্লেক্স নির্মিত হচ্ছে। তবে পরে সবমিলিয়ে প্রকল্পটির জন্য প্রায় ১ হাজার একর জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে।