পা দিয়ে লিখে জিপিএ-৪ পেল আরিফা

আপডেট : ১১ মে ২০১৬, ২১:৫৩
জন্ম থেকে হাত থাকতেও হাত নেই। তারপরও নিজের অদম্য ইচ্ছা আর প্রবল মনোবল শক্তির জোরে পা দিয়ে লিখেই এগিয়ে যাচ্ছে আরিফা। পিএসসি ও জেএসসির গণ্ডি আগেই পাড়ি দিয়েছে সে। পা দিয়ে লিখে এবার মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সে জিপিএ- ৪.১১ পেয়েছে। মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে উচ্চ শিক্ষা অর্জনের ক্ষেত্রে আরো একধাপ এগিয়ে গেল আরিফা।
 
কিন্তু এরপরও দুশ্চিন্তায় আরিফা। তার কাছে দুশ্চিন্তার আরেক নাম দারিদ্রতা। প্রতিবন্ধী আরিফা খাতুন লালমনিরহাট সদর উপজেলার ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ের মানবিক শাখা থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে। লালমনিরহাট সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষার্থীর জন্য অতিরিক্ত ২০ মিনিট সময় পেয়েছিল।
 
আরিফা খাতুন স্থানীয় উত্তর সাপটানা ব্র্যাক প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করে ভর্তি হয় ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ে। প্রাথমিকে মেধা তালিকায় পঞ্চমে থাকা আরিফা খাতুন জেএসসি পরীক্ষায় জিপি-এ ৪.৪ পায়। এবার মেধাবী আরিফা খাতুন এসএসসি পরীক্ষায় ৪.১১ পান। দারিদ্রতার কষাঘাতে বেড়ে ওঠা আরিফা খাতুনের এসব অর্জন যেন বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
 
পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট আরিফা খাতুন পড়াশুনায় মেধাবী হিসেবে সবার কাছে পরিচিত ছিল। তার অপর দুই ভাই ও দুই বোন স্বাভাবিক হলেও আরিফা জন্মের পরই প্রতিবন্ধী হয়ে যায়। বাবা আব্দুল আলী একজন 'তালা' মিস্ত্রি আর মা মমতাজ বেগম গৃহহীনই। সদর উপজেলার খোড়ারপুল শাহীটারী এলাকার বাসিন্দা আব্দুল আলী তার মেয়েকে পড়াশুনা করাচ্ছেন অতিকষ্টে। আরিফা খাতুনের দুটি হাতই সম্পূর্ণ অচল হওয়ায় পা দিয়েই তাকে সকল ধরনের কাজ করতে হয়। লেখা, আঁকা, পানি পান করা, মাথায় চিরুনি দেওয়া এর সবই পা দিয়ে করে সে। মা মমতাজ বেগম তাকে খাইয়ে দেন, গোসল করিয়ে দেন আর পোশাক পড়তে সহযোগিতা করেন।
 
পরীক্ষার ফলাফল জানতে পেরেও আরিফা খুশি হতে পারেনি। কারণ জানতে চাইলে সে জানায়, 'ইচ্ছে থাকলেও আমার মতো দরিদ্র পরিবারে মেয়েরা বেশি দুর পর্যন্ত লেখাপড়া করতে পারে না। তারপরও স্বপ্ন দেখছি অনেক দুরে যাবার।' পড়াশুনা করে কি হবে জানতে চাইলে আরিফা বলেন, 'আইনজীবী হবো। অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করবো। আইনের সহায়তা বঞ্চিত মানুষের হয়ে কাজ করবো।' 
 
ফুলগাছ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহজাহান আলী জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধী আরিফা খাতুন অদম্য ইচ্ছা থেকেই আজ কৃতিত্বের সাথে মাধ্যমিক পাশ করেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, 'দারিদ্রতার কারণে যেন তার পড়ালেখায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, দারিদ্রতা ও প্রতিবন্ধী জীবনকে জয় করে আরিফা একদিন তার স্বপ্নকে রূপ দিতে পারবে।'