জিপিএ-৫ পেয়েছে বোমায় চোখ হারানো সেই অণিক ও হৃদয়

আপডেট : ১১ মে ২০১৬, ২২:২৯
ফেনীতে দুর্বৃত্তদের বোমার আঘাতে চোখ হারানো মিনহাজ উদ্দিন অণিক ও শাহরিয়ার হৃদয় এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে।
 
বুধবার প্রকাশের পর পরিবারের মাঝে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে। ফেনী সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়র থেকে পরীক্ষা দিয়ে তারা এই কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল করে।
 
২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি দুর্বৃত্তদের বোমার আঘাতে ডান চোখ হারিয়ে এক চোখের আলো দিয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে মেধাবী ছাত্র মিনহাজ উদ্দিন অনিক ও শাহরিয়ার হৃদয়। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় তিন দফায় ভারতে চিকিৎসা দেয়া হয় তাদের। এ বছর তারা পরীক্ষায় অংশ নেয়। জিপিএ-৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হওয়ায় তারা দু’জন অনেক খুশি। অনিক ও হৃদয় এবং তাদের পরিবার এ ফলাফলের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞ।
 
মেধাবী এই দুই শিক্ষার্থীর পরিবার সঞ্চিত অর্থ ব্যয় করেছে অনিক-হৃদয়ের চিকিৎসার পেছনে। আগামীতে তাদের উচ্চ শিক্ষার জন্য এখন হতাশায় ভুগছে। তাদের দাবি প্রধানমন্ত্রী যদি অতীতের ন্যায় অনিক ও হৃদয়ের উচ্চ শিক্ষা গ্রহণে সহযোগিতা করেন তাহলে এই দুই মেধাবী ছাত্র বিজ্ঞানী হওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারবে।
 
শাহরিয়ার হৃদয় জানায়, এই ফলাফলে সে অনেক খুশি। চোখ হারানোর আগে বহু বৈজ্ঞানিক প্রজেক্ট তৈরি করেছে সে। স্থানীয় ও বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রজেক্টে অংশ গ্রহণ করে কৃতিত্ব স্বরূপ সনদ অর্জন করেছে। ২০১৪ সালের জুনে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় আয়োজিত ৩৫ তম জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ এবং বিভাগীয় মেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছিল। তার স্বপ্ন মানুষের উপকারে আসে এমন কিছু প্রজেক্ট তৈরি করা। ইতোমধ্যে দুটি রোবট, একটি ওয়াটার স্যানিটেশন প্রজেক্ট বানিয়েছে।
 
IMG0
মিনহাজ উদ্দিন অণিক জানায়, এই ফলাফলে সে অনেক খুশি। সে গত বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করতো। কিন্তু দুর্ঘটনার কারণে সে পরীক্ষা দিতে পারেনি। এ বছর আপনাদের দোয়া পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে জিপিএ-৫ পেয়েছি। সে বুয়েট ইঞ্জিনিয়ার হওয়া তার জীবনের ইচ্ছে।
 
মিনহাজুল ইসলাম অণিকের মা জেসমিন আক্তার জানান, তার ছেলে এক বছর পেছেনো যাওয়ার পরও ভালো ফলাফল করেছে সে জন্য আমি আনন্দিত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতায় তার ছেলে স্বাভাবিক জীবন ফিরে পেয়েছে।
 
অণিকের বাবা মিজানুর রহমান জানান, তিনি অনেক খুশি হয়েছেন। ২০১৫ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিল দুর্বৃত্তদের বোমা হামলায় সে এক বছর পিছিয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতায় সে সুস্থ হয়ে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করেছে। ভালো ফলাফলের জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চান।