মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ আরো তিন নেতার আপিল ও রিভিউ নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে। এরা হলেন— বদর কমান্ডার ও দলটি শূরা সদস্য মীর কাসেম আলী, নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুস সুবহান ও সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম আজহারুল ইসলাম। এছাড়াও মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত আরো ৯ জনের আবেদন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন। পর্যায়ক্রমে এসব আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি হতে পারে বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা।
আইনজীবীরা জানান, ইতিপূর্বে মানবতাবিরোধীদের যেসব আপিল শুনানি ও নিষ্পত্তি হয়েছে সেগুলো ক্রম অনুসরণ করে করা হয়েছে। সেই ক্রম অনুসরণ করা হলে দণ্ডপ্রাপ্ত বহিষ্কৃত আওয়ামী লীগ নেতা মো. মোবারক হোসেন, জাপা নেতা সৈয়দ মো. কায়সার, জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলাম ও আব্দুস সুবহান, মো. আব্দুল জব্বারের আপিল পর্যায়ক্রমে শুনানির জন্য আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় আসবে।
প্রসঙ্গত, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর পর যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ পর্যন্ত ১২টি মামলায় ১৯ জনকে দণ্ড প্রদান করেছেন। যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ সাজা দিয়েছে ১১টি মামলায় ১৩ জনকে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে বেশ কয়েকজন পলাতক রয়েছেন। ফলে তারা আপিলের সুযোগ হারিয়েছেন। যারা কারাবন্দী রয়েছেন তাদের মধ্যে ১২ জনের আপিল সর্বোচ্চ আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে ১১ জন মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন। আর একজনের সর্বোচ্চ সাজা চেয়ে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল চেয়ে আপিল করেছেন মোবারক হোসেন, এটিএম আজহারুল ইসলাম, আব্দুস সুবহান, সৈয়দ মো. কায়সার, সাবেক মুসলিম লীগ নেতা চাঁপাইনবাবগঞ্জের আফসার হোসেন চুটু ও মাহিদুর রহমান, পটুয়াখালীর ফোরকান মল্লিক, বাগেরহাটের সিরাজুল হক ওরফে কসাই সিরাজ, খান আকরাম হোসেন, নেত্রকোনার আতাউর রহমান ননী ও ওবায়দুল হক তাহের। অপরদিকে পিরোজপুরের সাবেক এমপি পলাতক জব্বার ইঞ্জিনিয়ারের মৃত্যুদণ্ড চেয়ে আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ট্রাইব্যুনাল তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেয়।
মীর কাসেমের আপিলের রায় প্রকাশের অপেক্ষায়
মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আলবদর কমান্ডার ও জামায়াতের শূরা সদস্য মীর কাসেম আলীর আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় এখন প্রকাশের অপেক্ষায়। তার আপিল নিষ্পত্তি করে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে প্রধান বিচারপতি এসকে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ। আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেলে ১৫ দিনের মধ্যে রিভিউ পিটিশন দাখিল করতে হবে কাসেমকে। চলতি মাসে আপিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ পেতে পারে বলে একটি সূত্র জানিয়েছে।
