লবলঙ্গকে বাঁচাতে হবে

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৯, ২১:৪১

মাওনা থেকে কাওনা হয়ে মির্জাপুর পর্যন্ত বিস্তৃত লবলঙ্গ নদী। আমরা শিল্পায়নের বিরোধিতা করি না, তবে নদীদূষণও মেনে নিতে পারি না। ক্রমাগত শিল্পায়ন আর শিল্পকারখানার বর্জ্য ইটিপি থেকে পরিশোধিত না হয়ে নদীতে চলে আসায় নষ্ট হয়েছে নদীর পানি, বিলুপ্ত হয়েছে মাছ ও ব্যাঙসহ বহু জলজ প্রাণী। শত শত একর জমির চাষাবাদে ব্যবহূত হচ্ছে এই দূষিত পানি, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। পরিবেশের বিপর্যয় এর মধ্যেই হয়েছে—শিল্পের আগ্রাসন, দখল দূষণে বলা চলে ক্ষতবিক্ষত লবলঙ্গ। বায়ুদূষণে নাক চেপে চলতে হয়। বাঁচাতে হবে লবলঙ্গ নদীকে—নয়তো বিস্তীর্ণ জনপদ দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়বে। নদী দূষণকারী শিল্পগুলো কেন ইটিপি ব্যবহার করছে না তার দায় কিন্তু প্রশাসন এড়াতে পারে না। কেমিক্যাল মিশ্রিত পানি বইছে নদীর বুকজুড়ে আর এই জনপদে ছড়িয়ে দিয়ে যাচ্ছে তার বিষক্রিয়া। গত কয়েক বছরে কয়েক হাজার একর কৃষিজমি ভরাট করে শিল্প কারখানা স্থাপন করা হয়েছে, যা ভবিষ্যত্ খাদ্যঝুঁকির জন্য যথেষ্ট। লবলঙ্গের দুপারে হতে পারে নান্দনিক হাঁটার পথ। সেচ কাজে সারা বছরে যে পানির চাহিদা রয়েছে তা মেটাতে পারে নদীটি; তবে সেজন্য একে দূষণমুক্ত করতে হবে। দুই পারে রোপিত হতে পারে নানা ফলদ ও বনজ গাছ, যা রক্ষা করবে পরিবেশের ভারসাম্য। তাই লবলঙ্গ পারের মানুষের আশা—নদী রক্ষায় প্রশাসন বিশেষ ব্যবস্থা নেবে।

সাব্বির হোসেন

শ্রীপুর, গাজীপুর