কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলায় ব্যবসায়ী সুজন আহমেদ হত্যা মামলায় তিনি বন্ধুকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড অনাদায়ে দুই বছরের কারাদণ্ডাদেশ প্রদান করা হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলার সাইকোট গ্রামের আবুল কালাম (২৪), সবুজ (২৪) ও আজমপাড়ার মো. তৌফিক (২০)।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতের বিচারক নুরুন্নাহার বেগম শিউলী এ রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন আদালতের অতিরিক্ত পিপি অ্যাড. মো. আবু তাহের এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাড. ফারুক আহমেদ ও অ্যাড. আখতার হামিদ খান কবীর।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মুরাদনগর উপজেলার কালাডুমুর গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে সুজন আহমেদ (২০) চান্দিনা উপজেলার মহারং গ্রামে নানার বাড়িতে থাকতেন এবং চান্দিনা বাজারে কনফেকশনারি ব্যবসা করতেন। ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় সুজন আহমেদ এক লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে মোটরসাইকেল ক্রয় করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়ে আর ফিরেননি। নিখোঁজের পাঁচদিন পর ২১ সেপ্টেম্বর চান্দিনা মহিলা কলেজের পাশে বিশ্বাস গ্রামের একটি ইটের স্তূপের উপর সুজন আহমেদের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পাওয়া যায়।
খবর পেয়ে নিহতের মা জাহানারা বেগম লাশের পরনের প্যান্ট, শার্ট ও বেল্ট দেখে লাশটি সুজনের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় জাহানারা বেগম বাদী হয়ে ২২ সেপ্টেম্বর সুজনের বন্ধু আবুল কালাম (২৪), সবুজ (২৫) ও মোহাম্মদ তৌফিকসহ (২০) অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন। এ মামলায় পুলিশ ওই তিনজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যার রহস্য উন্মোচিত হয়।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানান, তারা সুজন আহমেদের বন্ধু। মোটর সাইকেল কেনার উদ্দেশ্যে সুজন আহমেদ ওই টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তারা কৌশলে সুজনকে চান্দিনার আজামপাড়া এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে তাকে নেশাজাত দ্রব্যাদি খাইয়ে অচেতন করে তার সঙ্গে থাকা টাকা ও দুটি মোবাইল ফোন লুটে নেয়। এ সময় তারা সুজনের মাথা ইট দিয়ে থেতলে দেয় এবং তাকে জবাই করে হত্যার পর লাশ বিশ্বাস গ্রামের ইটের স্তূপের উপর ফেলে রাখে।
পুলিশ তাদের কাছ থেকে লুণ্ঠিত ৫৭ হাজার টাকা উদ্ধার করে। ঘাতকরা আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়।
এ মামলায় পুলিশ ২০১৩ সালের ৩০ জানুয়ারি ওই তিন আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জসিট দাখিল করে। আদালত ১১ জনের স্বাক্ষ্য গ্রহণ করে।
