কুমিল্লায় হত্যা মামলায় তিন বন্ধুকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছে কুমিল্লার একটি আদালত।
বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার অতিরিক্ত চতুর্থ আদালতের বিচারক নূরুন্নাহার বেগম শিউলী তাদের মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার পর সুজনের বাড়িতে গিয়ে তার মা জাহানারা বেগমকে আহাজারী করতে দেখা যায়।
একমাত্র ছেলের হত্যাকারীদের ফাঁসি রায় ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় জাহানারা বেগম বলেন, ‘হত্যাকারীদের ফাঁসিতে ঝুলাইয়া মারলে আমার সুজনের এর আত্মা শান্তি পাইব।'
তিনি বলেন, ‘দুই মাইয়্যার পর আমার সুজন হইছে (জন্ম নিয়েছে)। তার জন্মের পর স্বামী অন্যখান বিয়া কইয়া ভাইগ্গা যায়। আমি এই পোলাপাইনডিরে লইয়া বাপের বাড়িত (চান্দিনা মুন্সি বাড়ি) আইয়্যা জায়গা লই। তারার মুহের দিকে চাইয়া আমি নিজে কষ্ট কইয়া সংসার চালাই। আমার মানিক (সুজন) এর বাজারে দোকান দিব, আমি দোকান লইয়্যা দেই। কয়েক দিন পর মোটরসাইকেল কিনার জন্য বায়না ধরে পরে আমার বোনের কাছ থেইক্ক্যা টেহা (টাকা) লইয়া ১ লাখ ৬০ হাজার ট্যাহা তারে দেই। আর অমানুষেরা আমার পোলারে মাইরা ট্যাহা লইয়া যায়।'
জাহানারা আরো বলেন, ‘আইজ রায় পাইছি, আমার মনে হইছে দেশে এহনো বিচার আছে। তারার ফাঁসি কবে হউব? তারারে ফাঁসিতে ঝুলাইয়া কবে মারব হেই দিন দেহনের লাইগ্গা আল্লাহ যাতে আমারে বাঁচাইয়া রাখে হেই দোয়া করেন আফনারা।’
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় সুজনের মামা সাবেক পৌর কাউন্সিলর হাজী নূরুল ইসলাম জানান, এমন নির্মম হত্যাকাণ্ড আমি আর কখনো দেখিনি। তাদের রায় দ্রুত কার্যকর হবে সেই প্রতাশা করছি।
প্রসঙ্গত, ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মায়ের কাছ থেকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে মোটরসাইকেল কিনতে গিয়েছিলেন ২০ বছর বয়সী যুবক সুজন আহমেদ। ওই টাকার লোভে তিন বন্ধু তাকে নির্মমভাবে হত্যা করে ঝোপের মধ্যে তার মরদেহ লুকিয়ে রাখে । নিখোঁজের প্রায় ছয় দিন খোঁজ মিলে নিহত সুজনের।
