লন্ডনে লেখক-সাংবাদিক-শিল্পী-সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিষ্ঠান মূলধারা ইউকে-র উদ্যোগে বৈশাখী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। ৯ মে সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব লন্ডনের হোয়াইটচ্যাপেলের গ্রেটোরেক্স স্ট্রিটস্থ বিডিসি মিলনায়তনে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
বৈশাখী উৎসবে বরণ করা হয় বাংলা নববর্ষকে, স্মরণ করা হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে, উদযাপিত হয় মা দিবসও। এসময় ছিলো হল-ভরা দর্শক। গান-কবিতা-নাচ। ছিলো রবীন্দ্রনাথকে নিবেদিত কবিতা, মা-কে নিয়ে কবিতা। ছড়া, ছোটদের-বড়দের-সকলের। ছিলো আধুনিক-রবীন্দ্রসঙ্গীত-নজরুলসঙ্গীত-ফোক-হারানো-পুরোনো-সিনেমার গান।
বিশিষ্ট কন্ঠশিল্পী নাহিদ নাজিয়ার সভাপতিত্বে আয়োজিত এ-উৎসবে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রখ্যাত কবি ও শিশুসাহিত্যিক সৈয়দ আল ফারুক। বিশেষ অতিথি ছিলেন কবি-ছড়াকার ফাহমিদা মঞ্জু।
সম্প্রতি মূলধারার উদ্যোগে দু'মাসব্যাপী মিউজিক ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হয়। শিল্পী নাহিদ নাজিয়া বেশ কয়েকজন শিল্পীকে প্রশিক্ষণ দেন। তাদের মধ্য থেকে নির্বাচিত দুজন শিল্পীকে এ-অনুষ্ঠানে বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়। শিল্পী অলিউর রহমান এবং শিল্পী ফখরুজ্জামান উৎসবে দুই গুচ্ছ গান পরিবেশন করে দর্শক-শ্রোতার মনোযোগ আকর্ষণ করেন।
IMG0
শিল্পী নাহিদ নাজিয়া বিভিন্ন ধরনের বেশ কিছু গান শুনিয়ে শ্রোতাদের মাতিয়ে রাখেন। সভাপতির বক্তব্যে তিনি প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতিকে মর্যাদার আসনে তুলে ধরার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। এছাড়া প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত শিল্পীদের অধ্যবসায়ের ও কন্ঠমাধুর্যের প্রশংসা করেন এবং উপস্থিত সংস্কৃতিকর্মীদের নিয়মিত চর্চা ও সাধনা করে যাওয়ার আহ্বান জানান। ফাহমিদা মন্জুর কবিতা ও ছড়া পাঠ পর্বটিও ছিলো বেশ আকর্ষণীয়।
প্রধান অতিথির ভাষণে মূলধারার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি সৈয়দ আল ফারুক কথা বলেন দেশে-বিদেশে মূলধারার কর্মকান্ড নিয়ে, সমাজ গঠনে লেখক-শিল্পী-সাংবাদিক ও সংস্কৃতিকর্মীদের ভূমিকা নিয়ে। রবীন্দ্রনাথ, নববর্ষ আর মা বিষয়ে। শ্রোতাদের উপর্যপুরি অনুরোধে বিপুল করতালির মধ্যে তিনি পড়েন এক গুচ্ছ কবিতা ও ছড়া।
অনুষ্ঠানে আরো সঙ্গীত পরিবেশন করেন রেজানুর। কবিতা পাঠ করেন তরিকুল ইসলাম। নৃত্য পরিবেশন করে সৈয়দা তাসমিয়া তাহিয়া ও তাহসিন। কীবোর্ডে ছিলো চার্লস জন আর গিটারে রাহাত এম আলি। অনুষ্ঠান সহযোগী মূলধারার সদস্য সংস্কৃতিকর্মী আবদুস সালাম ও মাহমুদা আক্তার জাহান হীরার ভূমিকাও প্রশংসার দাবি রাখে।
সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত পৌনে এগারোটা পর্যন্ত হল-ভর্তি দর্শক-শ্রোতা মনোযোগ দিয়ে অনুষ্ঠানটি উপভোগ করে।
