বিশ্ব ব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা ও শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বুধবার রোমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে “খাদ্য নিরাপত্তা ও শান্তির লক্ষ্যে খাদ্য ও কৃষি সংস্থা-নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ীদের মৈত্রী” গঠনের ঘোষণা করা হয়েছে।
ড. ইউনূসসহ পাঁচজন নোবেল শান্তি পুরষ্কার জয়ী এবং খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মহাপরিচালক হোসে গ্রাজিয়ানো রোমে অবস্থিত সংস্থার প্রধান কার্যালয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিতিতে একটি বিশদ অনুষ্ঠানে এই মৈত্রী ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন।
খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মহাপরিচালক এই মৈত্রীর ধারণা নিয়ে নোবেল বিজয়ী প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সাথে গত বছর আলোচনা করেন এবং তাঁকে এই উদ্যোগে অংশ নিতে অনুরোধ করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মহাপরিচালক হোসে গ্রাজিয়ানো ও প্রফেসর ইউনূসের সঙ্গে ছিলেন নোবেল শান্তি পুরষ্কার জয়ী কোস্টারিকার প্রেসিডেন্ট অস্কার আরিয়াস সানচেজ, ইয়েমেনের তাওয়াক্কল কারমান ও উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেটি উইলিয়ামস। অনুষ্ঠান উপলক্ষে কফি আনান তাঁর ভিডিও বার্তা পাঠান।
এই যুগান্তকারী উদ্যোগটি গবেষণা-সমর্থিত এই ধারণার উপর গৃহীত হয়েছে যে, দীর্ঘ মেয়াদে খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া শান্তি এবং শান্তি ছাড়া খাদ্য নিরাপত্তা কোনটিই সম্ভব নয়। খাদ্য ও কৃষি সংস্থার মহাপরিচালক কর্তৃক উদ্বোধনকৃত এই অনুষ্ঠানে নোবেল লরিয়েটগণ ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্ব থেকে ক্ষুধা নির্মূলের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জনে কাজ করে যাবার ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।
প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস, যিনি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য সংক্রান্ত সমর্থকদের একজন, কিভাবে উদীয়মান প্রযুক্তির সীমাহীন ক্ষমতা ব্যবহার করে এবং বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের তরুণদের চাকরী-প্রার্থী হবার পরিবর্তে উদ্যোক্তায় রূপান্তরিত করে সামাজিক ব্যবসার ব্যবসায়িক পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে শূন্য ক্ষুধা ও শূন্য অপুষ্টির সমস্যা মোকাবেলা করা যায় তা তুলে ধরেন।
নোবেল পুরস্কারজয়ীদের একটি বিশেষ দলিলে স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে যেখানে তাঁরা প্রত্যেকে শূন্য ক্ষুধা এবং শান্তি অর্জনের রোড ম্যাপ বিষয়ে তাঁদের স্ব-স্ব চিন্তা-ভাবনা লিপিবদ্ধ করেন।
