দখল দূষণে করতোয়ার মরণ দশা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৯, ২২:১২

অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান

আমিনুল ইসলাম হিরু, বগুড়া অফিস

দখল-দূষণে মরণদশা করতোয়ার জীবন ফেরাতে বিভিন্ন সংস্থাসহ বগুড়াবাসী নানাভাবে আন্দোলন সংগ্রাম করছে। এককালের খরস্রোতা, প্রমত্তা এই করতোয়া নদীর কূল ঘেঁষেই গড়ে উঠেছিল আড়াই হাজার বছরের সভ্যতা ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়, সিলা দেবীর ঘাট। করতোয়ার তীরেই প্রতিষ্ঠিত হয় শিল্পনগরী বগুড়া ও শেরপুর শহর। দখল দূষণমুক্ত করে উত্তরবঙ্গের অন্যতম প্রধান নদী করতোয়ার আগের রূপ ফেরাতে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) ও পরিবেশ আইনজীবী সমিতি (বেলা)সহ বগুড়াবাসীর গণস্বাক্ষর অভিযান, মানববন্ধন, নদী মেলাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছে। সম্প্রতি করতোয়ার মুক্তি ও ছন্দময় গতি ফেরাতে বগুড়া সার্কিট হাউজে এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। ওই সেমিনারে জাতীয় নদী রক্ষা কমিটির চেয়ারম্যান ড. মজিবুর রহমান করতোয়াকে দখল দূষণমুক্ত করতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বগুড়ার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেন।

ভারতের জলপাইগুড়ি জেলার বৈকুণ্ঠপুরের এক জলাভূমি থেকে করতোয়ার জন্ম। পঞ্চগড় জেলার ভজনপুর সীমান্ত দিয়ে এই নদী বাংলাদেশে প্রবেশ করে। তারপর দিনাজপুর, রংপুর, গাইবান্ধ্া, বগুড়া, নওগাঁ, নাটোর, সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়া এবং শাহজাদপুর উপজেলা অতিক্রম করে বাঘাবাড়ির কাছে হুরাসাগরে মিলিত হয়েছে। এই মিলিত প্রবাহ পাবনার বেড়ার কাছে পলাশবাড়িয়া নামক স্থানে যমুনায় পতিত হয়। ৬১১ কিলোমিটার চলার পথে করতোয়া নদী স্থানভেদে বড়াল, বাঙ্গালী, ফুলজোড়, করতোয়া বিভিন্ন নামে পরিচিতি পায়। যৌবনে করতোয়ার বুকচিরে চলাচল করতো নানা রঙের পালতোলা হরেক রকম নৌকা। মালামাল বোঝাই সওদাগরী নৌাকাগুলো এক বন্দর থেকে অন্য বন্দরে, এক ঘাট থেকে অন্য ঘাটে গিয়ে ভিড়তো। মাঝি-মাল্লাদের হাঁক-ডাকে সারাবছর মুখর থাকতো বন্দরের ঘাটপাড়গুলো। ভরা নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো হাজারো জেলে পরিবার। তাই তো করতোয়ার তীরে গড়ে উঠেছিল অনেক জেলে পল্লি।

অপরিকল্পিত, অনিয়ন্ত্রিত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, মানুষের অপরিণামদর্শী কর্মকাণ্ড করতোয়ার উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে। এর জলধারায় স্যুয়ারেজের মলমূত্র, পলিথিন, প্লাস্টিক, শিল্পবর্জ্য নিক্ষিপ্ত হওয়ায় ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয় নদীটি। ফলে পরিবেশ বিপর্যয়সহ করতোয়া এখন মৃত্যুর প্রহর গুণছে। বাপার বগুড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক জিয়াউর রহমান বলেন, নদীটিকে বাঁচানোর জন্য নানা কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে দু’লাখ মানুষের স্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ১২৩ কিলোমিটার নদী খননের জন্য ডিপিপি তৈরি করে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ বলেন, ইতোমধ্যে করতোয়া দখলকারীদের নামের তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। অচিরেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হবে।