হেট ক্রাইমসহ বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরল বাংলাদেশ কমিউনিটি

আপডেট : ১৪ মে ২০১৬, ১৪:৫৪
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কমিউনিটির অনেকেই হেট ক্রাইমের শিকার হচ্ছেন। এছাড়া প্রবাস জীবনেও তাদের নানা সমস্যা মোকাবেলা করতে হচ্ছে। কিন্তু সঠিক নির্দেশনার অভাবে তাদের সেই সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। কিন্তু প্রবাস জীবনের এই পথচলাকে সুগম ও নান্দনিক করতে নিউইয়র্ক পুলিশের সঙ্গে বাংলাদেশি কমিউনিটির সেতুবন্ধন রচনায় অগ্রণী ভূমিকা রাখছে বাংলাদেশি আমেরিকান পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন (বাপা)।
 
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউইয়র্ক সিটি পুলিশ (এনওয়াইপিডি) অফিসারদের এই সংগঠনটি প্রথমবারের মত স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে নিউইয়র্কের এস্টোরিয়ার ক্লাব সনমে আয়োজন করে টাউন হল মিটিংয়ের। যে অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক পুলিশের বেশ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। 
 
তাদের কাছে পেয়ে হেট ক্রাইমসহ নানান সমস্যার কথা তুলে ধরেন বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ। ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা এসব সমস্যা সমাধানে উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাসসহ নানা পরামর্শ দেন।
 
বাপা’র এই মহতী আয়োজনে বাংলাদেশি কমিউনিটির উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মত। তিল ধারনের ঠাঁই ছিল না ক্লাব সনমে। বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও আবহাওয়াজনিত কারণে তা কিছুটা বিলম্বিত হয়। বাপার প্রেসিডেন্ট এনওয়াইপিডি’র সার্জেন্ট সৈয়দ সুমনের সভাপতিত্বে এবং সংগঠনের সেকেন্ড ভাইস চেয়ারপারসন এনওয়াইপিডি’র লেফটেন্যান্ট শামসুল হকের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এনওয়াইপিডি’র সহকারী কশিনার একানার, হেট ক্রাইম ইউনিটের প্রধান এনওয়াইপিডি’র ডেপুটি ইন্সপেক্টর ম্যাগ্রিন, এনওয়াইপিডি’র ১১৪ প্রিসিঙ্কট-এর প্রধান ইন্সপেক্টর ফরচুন, ১০৭ প্রিসিঙ্কট-এর কমান্ডিং অফিসার ক্যাপ্টেন ভেলেরগা, এনওয়াইপিডি’র লেফটেন্যান্ট উডস্ এবং লেফটেন্যান্ট হেফারম্যান।IMG0
 
অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য কর্মকর্তাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাপার ট্রাস্টি এনওয়াইপিডি’র ডিটেকটিভ জামিল সারোয়ার জনি, অফিসার মাহবুব রহমান দিদার, বাপার কর্মকর্তা এনওয়াইপিডি’র অফিসার প্রিন্স আলম, অফিসার আব্দুল লতিফ প্রমুখ। 
 
অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুর রহিম হাওলাদার, জেবিবিএ’র সভাপতি জাকারিয়া মাসুদ জিকো ও সাধারণ সম্পাদক তারেক হাসান খান, নিউ আমেরিকার ওমেন্স ফোরামের প্রেসিডেন্ট রোকেয়া আক্তার, বিশিষ্ট আইনজীবী মোহাম্মদ এন মজুমদার, টাইম টিভির পরিচালক ও কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট মেহেরুন্নেসা জোবায়দা, বাংলাদেশী আমেরিকান অ্যাডভোকেসি গ্রুপের কামাল উদ্দিন, জালাল উদ্দিন, ব্যারিস্টার ইসরাত সামী প্রমুখ।
 
অনুষ্ঠানে নিউইয়র্ক সিটি পুর্লিশ বাংলাদেশি কমিউনিটিতে কিভাবে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারেন এবং কিভাবে হেট ক্রাইম, সমাজে যুবসমাজের ভূমিকা, ভাষাগত সমস্যা দূর করাসহ কমিউনিটির উন্নয়নে ভূমিকা রাখার কৌশলগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। অনুষ্ঠানে বাপার এই আয়োজনের ভূয়সী প্রশংসা করেন আমন্ত্রিত অতিথিরা।
IMG1
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন বাপার জেনারেল সেক্রেটারি এনওয়াইপিডি’র অফিসার হুমায়ূন কবীর। শেষে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাপার ফার্স্ট ভাইস চেয়ারপারসন এনওয়াইপিডি’র লেফটেন্যান্ট সুজাত খান। 
 
তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বাপা এ ধরনের অনুষ্ঠান অব্যাহত রাখবে। তিনি অনুষ্ঠান সফল করায় সকলের সকলকে ধন্যবাদ জানান। 
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগে বর্তমানে দুই শতাধিক কর্মকর্তা রয়েছেন। ট্রাফিক এজেন্ট রয়েছেন প্রায় সাতশ।