যশোরের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের জনপ্রিয় মুখ জয়ন্ত বিশ্বাস (৫০) মারা গেছেন। সোমবার ভোরে শহরের বেজপাড়ার বোনের বাসায় গলায় ফাঁস লাগিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। অকৃতদার জয়ন্ত ব্যক্তিগত হতাশা থেকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে তার সুহৃদরা ধারনা করছেন।
যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে লাশের ময়না তদন্তের পর শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য দুপুরে যশোর ইনস্টিটিউট নাট্যকলা সংসদে তার মরদেহ রাখা হবে। আত্মহত্যার আগে তিনি ফেসবুকে স্টাটাস দেন। ভোর ৪টায় ফেসবুকে দুই ভাগ্নের গলায় হাত দেয়া ছবির ওপর লেখেন : 'আমার দুই ভাগ্নে। যাদের আমি খুব ভালেবাসি।' এর একঘন্টা পর লেখেন : 'এই আমার নাটকের মঞ্চ বি, সরকার ঘূর্ণায়মান রঙ্গমঞ্চ। যেখানে দাঁড়িয়ে একের পর এক নাটকে অভিনয় করেছি, আমার নির্দেশনায় মঞ্চস্থ হয়েছে বহু নাটক।'
জয়ন্ত বিশ্বাস ছাত্রজীবন থেকেই রাজনীতির সাথে যুক্ত ছিলেন। শুরুতে তিনি ছাত্রলীগ, যুবলীগ হয়ে আওয়ামী লীগে যুক্ত হন। পালন করেন বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনসহ সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি ছিলেন রাজপথে। গত মেয়াদের যশোর জেলা আওয়ামী লীগের কমিটিতে তিনি ছিলেন সাংস্কৃতিক সম্পাদক।
কিন্তু গত মাসে কেন্দ্র থেকে ঘোষিত জেলা কমিটিতে তার কোনো স্থান ছিল না। এ নিয়ে তিনি কোথাও কোনো অনুযোগ না করলেও ভিতবে ভিতরে হতাশা দানা বেধেঁছিল বলে তার বন্ধুমহল মনে করেন।
এ প্রসঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল ইসলাম মিলন ইত্তেফাককে বলেন, 'গত দুই বছর সে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় ছিল। ব্যক্তিজীবনে তার মধ্যে হতাশাও ছিল। এই হতাশা থেকে সে আত্মহত্যা করতে পারে।'
তার মতো পোড়খাওয়া কর্মীকে কমিটিতে দায়িত্ব না দেয়ায় হতাশা চূড়ান্তভাবে দানা বাঁধে এবং আওয়ামী লীগ নেতা হিসেবে আপনিও এ দায় এড়াতে পারেন না এমনটা বলা হলে তিনি বলেন, 'এসব অন্যখান থেকে হয়েছে। আমি কিছু বলতে পারব না।'
