এবার সৌদি এয়ারলাইন্সের দুই বিমানবালার অন্তর্বাসে প্রায় সাড়ে ৪ কেজি ওজনের ৩৬ টি স্বর্ণের বার উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া প্রিমিয়ার ব্যাংকের এভিপি পদমর্যাদার এক নারী ব্যাংক কর্মকর্তা ১ কেজি স্বর্ণের বারসহ আটক হয়েছেন। গতকাল হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এই তিন নারীকে স্বর্ণসহ আটক করে ঢাকা কাস্টমস হাউজ (ডিসিএইচ)। আটককৃতরা হলেন- সৌদি এয়ারলাইন্সের বিমানবালা বাংলাদেশি সায়মা আক্তার ও ফারজানা আফরোজ এবং প্রিমিয়ার ব্যাংক কলাবাগান শাখার ডেপুটি ম্যানেজার রাজিয়া মাহমুদ। জব্দকৃত স্বর্ণের বাজার মূল্য ২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। তাদের বিরুদ্ধে বিমানবন্দর থানায় মামলা হয়েছে।
ডিসিএইচ’র ডেপুটি কমিশনার অথেলো চৌধুরী জানান, রবিবার রাতে সৌদি এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট (এসভি-৮০২) ঢাকায় আসে। ওই ফ্লাইটের দুই বিমানবালা সায়মা ও ফারজানাকে বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তারা নিজেদের কাছে অবৈধ জিনিস রাখার কথা অস্বীকার করেন। পরে নারী নিরাপত্তা কর্মী দিয়ে তাদের দেহ তল্লাশি করা হয়। তাদের অন্তর্বাসের ভিতর খুব সুকৌশলে স্বর্ণের বারগুলো লুকানো ছিল। তাদের কাছ থেকে ৪ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের ৩৬ টি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। এর মধ্যে সায়মার কাছে ২৬ টি এবং ফারজানার কাছে ১০ টি স্বর্ণের বার ছিল। জব্দকৃত সোনার আনুমানিক বাজার মূল্য ২ কোটি ১০ লাখ টাকা। তারা জানিয়েছেন, সৌদি আরব থেকে একটি চক্র তাদেরকে এই অন্তর্বাস দিয়েছে। ঢাকায় এসে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির কাছে স্বর্ণগুলো পৌঁছে দিতে হবে।
এদিকে, গতকাল ভোরে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে (বিজি-৮৭) ঢাকায় আসেন রাজিয়া। বিমানবন্দরের গ্রিন চ্যানেল অতিক্রমের সময় সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে আটক করা হয়। পরে তার দেহ তল্লাশি করে এক কেজি স্বর্ণের বার পাওয়া যায়। যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৫০ লাখ টাকা। রাজিয়া প্রিমিয়ার ব্যাংকের এভিপি পদমর্যাদার এবং তিনি কলাবাগান ব্রাঞ্চের ডেপুটি ম্যানেজার এবং ব্রাঞ্চ অপারেশন ইনচার্জ হিসেবে কর্মরত। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, জব্দ স্বর্ণ তার নিজের নয়। আর্থিক সুবিধার জন্য এই স্বর্ণ বহন করছিলেন।
