রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসীদের ব্রাশফায়ারে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, আনসার-ভিডিপির সদস্যসহ ৭ জন নিহত হয়েছেন। বাঘাইছড়ি উপজেলার কংলাক মাচালং ও বাঘাইহাট ভোট কেন্দ্র থেকে উপজেলা নির্বাচনের দায়িত্ব পালন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে নয়কিলো নামক স্থানে তাদের বহনকারী গাড়ি অর্তকিত হামলার শিকার হয়। এ ঘটনায় আরো অন্তত ১৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন যাদের সবার অবস্থাই কমবেশি আশঙ্কাজনক। তাদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে গুলি লেগেছে। গতকাল সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর স্থানীয় সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
নিহতরা হলেন—বাঘাইছড়ি উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার তৈয়ব আলী, কাচালং গার্লস স্কুলের শিক্ষক ও সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার মো. আমীর আলী (৩৭), আনসার—ভিডিপি সদস্য জাহানারা বেগম (৪০), মিহির কান্তি দত্ত (৪০), বিলকিস আক্তার (৫০) ও মো. আল আমিন এবং গাড়ির হেলপার মিন্টু চাকমা।
পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবির সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহতদের উদ্ধার করে বাঘাাইছড়ি সদর হাসপাতাল ও রাঙামাটি হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ১৮ জনকে সামরিক বাহিনীর দু’টি হেলিকপ্টারে করে চট্টগ্রাম ও ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচে) নেয়া হয়। হেলিকপ্টারের মধ্যে তৈয়ব আলীর মৃত্যু হয়। এছাড়া আহতদের মধ্যে রয়েছেন প্রিজাইডিং অফিসার আবদুল হান্নান, পাঁচ পুলিশ সদস্য ও তিনজন আনসার ভিডিপি সদস্য। অন্যদের পরিচয় নিশ্চিত করা যায়নি।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি খন্দকার গোলাম ফারুক ইত্তেফাককে জানান, উপজেলা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুটি আঞ্চলিক সংগঠনের বিরোধের জের ধরে নৃশংস এ হত্যাকান্ড ঘটানো হয়েছে। ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ইউপিডিএফ ওই উপজেলায় নির্বাচন বর্জন করেছিল। তারা ব্যালট ছিনতাই করতে চেয়েছিল। কিন্তু কঠোর নিরাপত্তার জন্য সেটা করতে না পেরে প্রতিশোধ নেয়ার জন্য এলোপাতাড়ি ব্রাশফায়ার করে।
নিরাপত্তা বাহিনী সূত্র জানায়, বাঘাইছড়ি উপজেলার কংলাক মাচালং ও বাঘাইহাট ভোট কেন্দ্র থেকে ভোট কার্যক্রম শেষে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারসহ ভোটের সাথে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বাঘাইছড়ি উপজেলায় ফিরছিলেন। নির্বাচনী কর্মকর্তাদের বহন করছিল তিনটি গাড়ি। গাড়িতে ছিল নির্বাচনী সরঞ্জাম। বিজিবির একটি দল আরেকটি গাড়িতে করে তাদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল। বিজিবির গাড়িটি ছিল সবার সামনে। গাড়িবহরটি উপজেলার দীঘিনালা-বাঘাইছড়ি সড়কের মারিশ্যা নয়কিলো নামক স্থানে পৌঁছালে উপজাতীয় সন্ত্রাসীরা বহরের শেষ গাড়ি (চাঁদের গাড়ি) লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি বর্ষণ শুরু করে। এসময় ঘটনাস্থলেই ছয়জন নিহত হয়। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে হেলিকপ্টারে একজনের মৃত্যু হয়।
সূত্র জানায়, বাঘাইছড়ি উপজেলা নির্বাচনে জেএসএস (সন্তু) নির্বাচন বয়কটের ঘোষণা দিলে তাদের সমর্থিত প্রার্থী বড়ঋষি চাকমা নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। সেখানে জেএসএস (সংস্কার) সমর্থিত প্রার্থী সুদর্শন চাকমার জয় ঠেকানোর জন্য ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও জেএসএস (সন্তু) সন্ত্রাসীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই হামলা চালায়।
এদিকে, এই ঘটনায় এলাকায় থমথমে অবস্থার বিরাজ করছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন জোরদার করা হয়েছে।
