চলতি উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপে ভোটার উপস্থিতি ছিল একেবারেই কম। কিছু কিছু উপজেলার ভোট কেন্দ্র ছিল একদম ফাঁকা। ভোটারের অপেক্ষায় ঠাঁয় বসে ছিলেন নির্বাচনী কর্মকর্তারা। অধিকাংশ উপজেলায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়া অন্য দলের প্রার্থী না থাকায় ভোটারদের মাঝে এই নির্বাচন নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়নি। ভোটার শূন্য কেন্দ্রগুলো নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তাদের জন্য বিব্রতকর হয়ে উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার জানিয়েছেন, একতরফা উপজেলা নির্বাচনের কারণে ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ নেই।
পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে গতকাল সোমবার দ্বিতীয় ধাপে ১১৬ উপজেলায় ৭ হাজার ৩৯ কেন্দ্রে সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হয়। ভোটগ্রহণ শেষে ইসির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেন, দ্বিতীয় ধাপে অবাধ, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ ভোট হয়েছে। অনিয়ম ও ত্রুটির কারণে ৮টি কেন্দ্রের ভোট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা স্থগিত করেছেন। অন্য কোথাও অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়নি। এই ধাপে ভোটারের উপস্থিতি প্রসঙ্গে ইসি সচিব বলেন, কোথাও কোথাও কম থাকলেও অধিকাংশ এলাকায় ব্যাপক উপস্থিতি ছিল। সব মিলিয়ে প্রথম ধাপের চেয়ে বেশি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে বিভিন্ন উপজেলার ভোটগ্রহণের চিত্র তুলে ধরেছেন ইত্তেফাকের প্রতিনিধি ও সংবাদদাতারা। তারাও অধিকাংশ কেন্দ্রে ভোটারদের অনাগ্রহের কথা তুলে ধরেছেন। সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের তিরাশী গ্রামের ভোট কেন্দে জাল ভোট প্রদান ও ব্যালট পেপার ছিনতাইকে কেন্দ করে দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় হামলার শিকার হয়েছেন দায়িত্বরত কর্মকর্তা ও পুলিশ সদস্যরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ৭ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও ১৩ রাউন্ড শর্টগানের গুলি ছোড়ে। এতে কমপক্ষে ২০/২৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, অনেক কেন্দ্রে সকাল ১০টা পর্যন্ত মাত্র ১০-১২টি ভোট পড়ে।
সীতাকুন্ডে দ্বিতীয় ধাপে উপজেলা নির্বাচনে বেশিরভাগ কেন্দ্রে ভোটার শূন্যতা, এজেন্ট বের করে দেয়া ও জাল ভোটের অভিযোগ উঠেছে। সেখানে প্রার্থীরা পুনরায় নির্বাচনের দাবি তুলেছে। সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলায় আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী মোহাম্মদ গোলাম রব্বানী ভোট বর্জন করেছেন। তার প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর লোকজন সকাল ৮টায় ভোট গ্রহণ শুরুর পর থেকে অবৈধ্য বিভিন্ন ভোট কেন্দ দখল করে রাখেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মৌলভীবাজারের ৭টি উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দে ঘুরে পর্যাপ্ত ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়েনি। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে জেলার সবক’টি উপজেলা জুড়ে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা থাকলেও ছিল না নির্বাচনী আমেজ। প্রার্থী আর কর্মীদের ব্যাপক দৌড়ঝাঁপ সত্ত্বেও ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ ছিল না। পাবনার সাঁথিয়ায় প্রতিটি ভোট কেন্দে ভোটার উপস্থিতি ছিল খুবই কম। অধিকাংশ কেন্দ দিনজুড়ে ছিল ফাঁকা। ভুলবাড়িয়া ইউনিয়নের দেবিপুর তে-বাড়িয়া দাখিল মাদরাসা কেন্দে তে-বাড়িয়া মহিলা ৫ নং বুথে ৫ ঘন্টায় ২টি ভোট সংগ্রহ হয়েছে বলে জানান কেন্দে র দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা।
এদিকে, পাবনার ঈশ্বরদীতে গতকাল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোট কেন্দ গুলোতে ভোটারের উপস্থিতি তেমন চোখে পড়েনি। এ ব্যাপারে ভোটারদের মধ্যে কোনো উত্সাহও দেখা গেল না । বুথগুলোতে ভোট গ্রহণের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসার এবং পোলিং এজেন্টরা অলস সময় কাটাচ্ছে।
বান্দরবানে বিচ্ছিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে সাতটি উপজেলায় ১৭৬টি ভোট কেন্দে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। থানচিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্যহ্লাচিং এর সমর্থকদের হামলায় প্রিসাইডিং অফিসার দিল মোহাম্মদ এবং সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার সাদত হোসেন গুরুতর আহত হয়েছেন। সকালে ভোট গ্রহণের শুরু থেকে বিকালে শেষ হওয়া পর্যন্ত কোনো কেন্দে ই তেমন ভোটারের উপস্থিতি ছিল না।
এর বাইরে আরো অনেক এলাকার সংবাদদাতা ও প্রতিনিধিরা জানিয়েছেন, অধিকাংশ উপজেলায় ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ হলেও কোথাও কোথাও কর্মকর্তারা অনেকক্ষণ অপেক্ষার পর একজন ভোটারের দেখা পেয়েছেন।
