আলু চাষিদের সংকট

সিরাজদিখানে গোল আলু তোলায় ব্যস্ততা বাড়লেও পরিবহনসহ নানা সংকটে চাষিরা

আপডেট : ১৮ মার্চ ২০১৯, ২৩:৪০

গোল আলু উত্পাদনের অন্যতম বৃহত্ এলাকা মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানসহ আশেপাশের উপজেলাগুলোতে এখন গোল আলু তুলতে ব্যস্ত  লোকজন। কৃষক পরিবারের সদস্যবৃন্দ, লেবার, আলু পরিবহনের শ্রমিক, কোল্ডস্টোরেজের কর্মকর্তা কর্মচারী, ছালা ব্যবসায়ীসহ আলুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলেরই ব্যস্ততার কমতি নেই। তবে এবার কৃষক আলুর দাম নিয়ে হতাশ। বাজারে এবছরও আলুর দাম কম এবং ক্রেতার অভাব দেখা যাচ্ছে।

এবছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আলুর ফলন ভালো হয়েছে। কিন্তু কৃষি শ্রমিক ও পরিবহন সংকটের কারণে বিগত তিন বছরের মতো এবছরও কৃষক আলু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ছোট চাষিরা আলু উত্তোলনের পর জমিতে ফেলে রেখেছেন ক্রেতার অভাবে। কারণ কোল্ড-স্টোরেজে আলু সংরক্ষণ করতে গেলে শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন খরচ, ছালা-সুতা ক্রয়সহ কোল্ড-স্টোরেজের ভাড়া গুণতে হয়। অপরদিকে অনেক বড় কৃষক গত কয়েক বছরের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে অনেকটা বাধ্য হয়েই পরিবহন ব্যয়সহ বিভিন্ন খরচ মিটিয়ে কোল্ড-স্টোরেজে আলু সংরক্ষণ করছেন। তবে প্রতিবছরের ন্যায় এবারও এলাকায় শ্রমিক ও পরিবহন সংকট দেখা দিয়েছে। সংকট সমাধানে এবারও দেশের উত্তরবঙ্গ রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, নীলফামারী, জামালপুর থেকে কৃষি শ্রমিক ও পরিবহন শ্রমিক এসেছেন। গত কয়েক বছর যাবত্ নদী ভরাট হয়ে যাওয়ায় ও কচুরিপানার কারণে নৌকায় আলু পরিবহন সম্ভব হচ্ছে না। আবার রাস্তার অভাবে ট্রাক ও ট্রলির মাধ্যমেও সব এলাকার আলু পরিবহন করা যাচ্ছে না। তাই ঐসব এলাকার আলু পরিবহন করে কোল্ড-স্টোরেজে নেওয়া হয় সাইকেলের মাধ্যমে। উত্তরবঙ্গের শ্রমিকেরা সাইকেল নিয়ে আসে। প্রতি সাইকেলে ৫ থেকে ৬ মণ আলু পরিবহন করতে পারেন তারা। দূরত্বভেদে বিভিন্ন রকম মজুরি নেওয়া হয়।

সিরাজদিখান উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুবোধ চন্দ্র রায় জানান, এ বছর সিরাজদিখান উপজেলায় ৯ হাজার ২শ হেক্টর জমিতে আলু আবাদ করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর গোল আলুর ফলন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আলুর ব্যবহার বৃদ্ধি ও বিদেশে রপ্তানি করা না  গেলে আলুর এ দুরবস্থা কাটিয়ে ওঠা কঠিন হবে।