বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু'র মোকাবেলায় বাগেরহাটের মংলা, রামপাল, শরণখোলা ও মেড়েলগঞ্জ উপজেলায় সকল ধরনের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে ।
বাগেরহাট জেলা প্রশাসন জানায়, ইতোমধ্যে মংলা বন্দরে অবস্থানরত সব জাহাজের পণ্য বোঝাই, খালাস ও পরিবহণ কাজ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। মংলা বন্দরে অবস্থানরত দেশী-বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে সতর্কতাবস্থায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ। এছাড়া দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় ঘূর্ণিঝড় মনিটরিংয়ের জন্য মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি কন্ট্রোল রুম খুলেছে।
সতর্কতা সংকেত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে উপজেলাগুলোর সকল আশ্রয় কেন্দ্র ও বহুতল ভবন বিশিষ্ট সরকারী-বেসরকারি ভবন ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। বাগেরহাটের উপকূলীয় এলাকা জুড়ে বাতাসের তীব্রতাও বেড়ে চলেছে। এরইমধ্যে দুপুর থেকেই বৃষ্টি শুরু হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ঘূর্ণিঝড় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মো. জাহাংগীর আলম বলেন, 'বাগেরহাট জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তাদের কর্মস্থল ত্যাগ না করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এছাড়া জেলার ২৩৫টি সাইক্লোলন শেল্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এসব আশ্রায় কেন্দ্রে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ নিরাপদে থাকতে পারবে।'
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু' উত্তর, উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আরো ঘনীভূত হয়ে উত্তর-উত্তর পূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে বলে বৃহস্পতিবার বিকেলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
নিম্নচাপটি মংলা সমুদ্র বন্দর থেকে ১১শ ৮৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে। নিম্নচাপ কেন্দ্রের ৫৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা ও ঝড়ো হাওয়া আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রভাবে বঙ্গোপসাগর প্রচণ্ড উত্তাল হয়ে উঠেছে। নিম্নচাপের কারণে মংলা বন্দরকে ৪ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে আবহাওয়া অফিস।
এছাড়া, মংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের মেম্বার (অপারেশন) মো. আলতাফ হোসেন জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর কারণে বন্দরে অবস্থানরত সকল দেশী-বিদেশী জাহাজগুলোকে নিরাপদে সতর্কতাবস্থায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
