জঙ্গি গোষ্ঠীর সঙ্গে বর্তমান সরকারের আচরণে হুবহু মিল আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্মমহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজশাহীর শালবাগান এলাকায় নিহত অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর পরিবারকে সমবেদনা জানানো শেষে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধ্যাপক রেজাউল হত্যার প্রকৃত খুনীদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, মানুষকে বিভ্রান্ত ও জনদৃষ্টিকে ঝাঁপসা করানোর জন্যে নয়, প্রকৃত হত্যাকারীদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বিএনপির রাজশাহী মহানগর সভাপতি মিজানুর রহমান মিনু, সাধারণ সম্পাদক সফিকুল হক মিলন, রাজশাহী বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহিন শওকত খালেক, অ্যাডভোকেট কামরুল মনির, নিহত অধ্যাপক রেজাউল করিমের স্ত্রী হোসনে আরা, মেয়ে রিজওয়ান হাসিন শতভি প্রমূখ।
রুহুল কবির রিজভী আরো বলেন, এ সরকারে সঙ্গে জঙ্গি গোষ্ঠীর অনেক ক্ষেত্রে মিল রয়েছে। জঙ্গিরা যেমন যে মতাদর্শে বিশ্বাস করে, তা ছাড়া অন্য মতাদর্শকে বরদাস্ত করে না, তাদের হত্যা করে; রক্তপাত ঘটায়। এই সরকার তেমনি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছে, গণতন্ত্রের নূন্যতম নিয়মকে মান্য করে না; সরকারের সমালোচনা সহ্য করে না; বিরোধী সহ্য করতে পারে না। বিচারবর্হিভূত হত্যা, গুপ্ত হত্যা, গুম ও খুনই হচ্ছে এই সরকারের শাসন পরিচালনার অন্যতম শর্ত। আজকে যে জঙ্গিদের কথা বলা হচ্ছে, দীর্ঘদিন ধরে এরা একের পর এক মানবতাবিরোধী, সভ্যতা ও সংস্কৃতি বিরোধী জঘণ্য প্রাণ বিনাশী কর্মকাণ্ড করছে। অথচ, এই সরকার, যার হাতে রাষ্ট্রের সকল সরঞ্জাম গোয়েন্দা বাহিনী, পুলিশ, র্যাব,আইন প্রয়োগকারী সংস্থা রয়েছে। অথচ তারা এখন পর্যন্ত তাদের খুঁজে বের করতে পারেনি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারজন শিক্ষক প্রসঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় এই নেতা বলেন, চারজন শিক্ষক খুন হলেন, অথচ এই সরকার এখন পর্যন্ত এর বিচারে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করেনি। এর জন্যে কারা দায়ী, কীভাবে শিক্ষকদের একের পর এক জীবন চলে যাচ্ছে-এটা বের করতে সরকার উদাসীন। অথচ এই সরকার জঙ্গিদের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করে জাতীয়-আন্তর্জাতিক শক্তিকে বোঝানোর চেষ্টা করছে, এর জন্যে বিরোধী দল দায়ী। কিন্তু সরকারের কর্মকাণ্ডের মধ্যেই চরম ব্যর্থতা, সরকার জঙ্গিদের চিহ্নিত ও প্রতিরোধ করতে পারেনি। ফলে একের পর এক ঘটনা ঘটছে, এর বার্তা আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, আমি এসেছি, বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সহমর্মীতা ও শোকবার্তা নিয়ে। এ ঘটনার পর যদিও দলের পক্ষ থেকে শোকবাণী দেওয়া হয়েছে, তারপরও ঢাকা থেকে তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন। তিনি (খালেদা জিয়া)বলেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষককের জীবন এভাবে চলে যাবে এটা কখনো কাম্য হতে পারে না।
২৩ এপ্রিল সকালে শালবাগান এলাকায় নিজ বাড়ি অদূরে কুপিয়ে হত্যা করা হয় অধ্যাপক রেজাউলকে। এ ঘটনায় পুলিশ চার জেএমবি ক্যাডারসহ কয়েক জামায়াত-শিবিরের কয়েক নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। হত্যা মিশনে অংশ নেওয়া জেএমবি সদস্য মাসকাওয়াত ওরফে আব্দুল্লাহ দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দিয়েছে।
