পাটকল শ্রমিক জাহালমকে নিয়ে সিনেমা তৈরির চিন্তা-ভাবনা চলছে। এমন খবরও দুটি জাতীয় দৈনিকের অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছে। সেই খবরের প্রেক্ষিতে জাহালমকে নিয়ে সিনেমা তৈরির উপর নিষেধাজ্ঞা চেয়ে হাইকোর্টে যাচ্ছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আজ মঙ্গলবার বিচারপতি মোঃ নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কেএম হাফিজুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে অনুমতি সাপেক্ষে এ আবেদন দাখিল করা হবে।
এ প্রসঙ্গে দুদক কৌঁসুলি খুরশীদ আলম খান ইত্তেফাককে বলেন, জাহালম ইস্যু এখন উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। বিচারাধীন বিষয়ে কোনো মন্তব্য বা সিনেমা তৈরি করা আদালত অবমাননার সামিল। তিনি বলেন, ইতিপূর্বে জাহালম নিয়ে কোর্ট প্রসিডিংসের বাইরে কিছু বলা যাবে না বলেও হাইকোর্ট মৌখিক আদেশ দিয়েছিলো। আর সেই জাহালম নিয়ে এখন সিনেমা তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমি মনে করি এটা উচ্চ আদালতকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর সামিল। তবে সিনেমা যদি করতেই হয় সেক্ষেত্রে আদালতের অনুমতি নিতে হবে।
প্রসঙ্গত ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে একটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল জাহালমের বিষয়ে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২৬ মামলায় ভুল ব্যক্তি জাহালমকে আসামি করা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অধিকতর তদন্ত করে দুদক। ওই বছরে দেওয়া দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, এজাহার ও অভিযোগপত্রে বর্ণিত আসামি মোঃ আবু সালেক ওরফে জাহালম (টাঙ্গাইল) প্রকৃত অপরাধী নয়। অধিকতর তদন্তে দেখা যায় মোঃ আবু ছালেক (ঠাকুরগাঁও) প্রকৃত অপরাধী। এই মামলায় জাহালমকে চার্জশিটভুক্ত আসামি করা হয়েছে। মূলত বিভিন্ন সাক্ষীদের জবানবন্দি ও শনাক্তের ভিত্তিতে। সাক্ষীদের পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা জানান যে ছবির সাথে মিল থাকায় জাহালমকে তারা আবু ছালেক মর্মে শনাক্ত করেন। গত ২ ফেব্রুয়ারি “২৬ মামলায় ‘ভুল’ আসামি জেলে: ‘স্যার, আমি জাহালম, সালেক না”-শিরোনামে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন আমলে নিয়ে পরদিন হাইকোর্ট জাহালমকে মুক্তির নির্দেশ দেয়। আদালত বলেন, দুদককে অবশ্যই স্বচ্ছ থাকতে হবে। যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত তাদেরকে চিহ্নিত করতে হবে। তদন্তে ভুল করার সুযোগ নেই। কোনো নির্দোষ ব্যক্তিকে এক মিনিটও কারাগারে আটক রাখার পক্ষে আমরা নই।
এরই মধ্যে গত ১৩ মার্চ ‘জাহালমকে নিয়ে সিনেমা, তিনিই জানেন না!’ এবং ‘জাহালম নিয়ে চলচ্চিত্র অভিনয় করবেন রিজু’ শীর্ষক শিরোনামে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদন নজরে আসলে এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আইনজীবী খুরশীদ আলম খানকে নির্দেশ দেয় দুদক।
