বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকার আওয়ামীলীগকে ডুবাতে নারায়ণগঞ্জের একটি পরিবারই যথেষ্ট বলে দাবি করেছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক সহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা। তাই অবিলম্বে সেলিম ওসমানকে গ্রেপ্তার সহ শাস্তির দাবি করেছেন। একই সঙ্গে সেলিম ওসমানের সংসদ সদস্য পদ বাতিল করার আহবান জানান তারা। গতকাল শুক্রবার বিকাল সোয়া ৫টায় নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সামনে এক মানববন্ধনে বক্তারা এসব দাবি করেন। ‘শিক্ষক শ্যামল কান্তি ভক্ত- আমরা লজ্জিত, ক্ষুব্ধ, ক্ষমাপ্রার্থী’ লেখা সম্বলিত ‘রাজনৈতিক দুর্বৃত্তদের দেশবাসী রুখে দাঁড়াও’ শ্লোগানে নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোট ওই মানববন্ধনের আয়োজন করে।
সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং উদীচী শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি কামাল লোহানী বলেন,‘ ১৯৭১ এ মুক্তিযুদ্ধের সময় নিজামী, আল মুজাহিদ, চৌধুরী মঈনুদ্দিন, কাদের মোল্লা, কামরুজ্জামান, আজাহরুল ইসলাম এদেরকে যা করতে দেখেছিলাম এখনো তাই দেখেছি। এদের প্রত্যেকের আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি কার্যকর হয়েছে ও হচ্ছে। সুতরাং যারা এখন মানুষকে অপমানিত করছে অন্যায় ভাবে জুলুম অত্যচার করছে। মনে রাখতে হবে একই পথে তাদের শাস্তি ভোগ করতে হবে।
তিনি বলেন, যারা জুলুম অত্যাচার করে তারা কখনো পার পায় না। যখন সাধারণ মানুষ ক্ষিপ্ত হয় তখন সাধারণ মানুষের হাতেই তাদের শাস্তি হয়। তাই এ নারায়ণগঞ্জের মাটিতেই সেলিম ওসমানকে কান ধরে উঠবস করানো হবে। শুধুমাত্র কান ধরে উঠবস করালেই হবে না। তার যে চরম শাস্তি সেই শাস্তি আমরা চাই। শুধু শাস্তি দিলেই হবে না। তাকে বুঝাতে হবে সে যে মানুষটিকে শাস্তি দিয়েছে তিনি ভবিষ্যতের নাগরিক গড়ার কাজ করে। তাকে লজ্জিত করা হয়নি বরং সমগ্র বাংলাদেশকে লজ্জিত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, শামীম ওসমানের কাহিনী ঢাকা পড়ে যাবে না। সেলিম ওসমান মিথ্যাচার করছে অভিযোগ এনে কামাল লোহানী বলেন, ‘সেলিম ওসমান যে সংবাদ সম্মেলন করেছে। তার শুরু লক্ষ্য করলে দেখা যাবে তিনি প্রথমে দাবি করেছেন প্রধান শিক্ষক ইচ্ছা করে কান ধরে উঠবস করেছেন। আবার যখন সেলিম ওসমান উত্তেজিত হয়ে গেছেন তখন তিনি নিজেই বলেছেন তিনি শাস্তি দিয়েছেন। একই ব্যাক্তি কত মিথ্যাচার করছেন। এছাড়াও তিনি বলছেন সম্প্রদায়িক উস্কানী দিচ্ছেন না। তাহলে কেন তিনি এ কথা বলছেন। এর মানে তিনি সম্প্রদায়িক উস্কানী দিচ্ছেন। এসব কথা বলে আমাদের মতো বা শ্যামল কান্তি নিয়ে যারা কথা বলছেন তাদের বিরুদ্ধে মানুষকে ক্ষেপিয়ে তোলা হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘আপনার ভাই শামীম ওসমান হেফাজতের মিছিলে পানি খাইয়েছেন। আপনার পার্টির নেতা এরশাদ হেফাজতে পানি বিতরণ করেছিলেন। সেই রকম নেতার শিষ্যই তো আপনি।’
নারায়ণগঞ্জ সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি জিয়াউল ইসলাম কাজলের সভাপতিত্ব ও সাধারণ সম্পাদক ধীমান সাহা জুয়েলের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ খেলাঘর আসনের সভাপতি রথিন চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি, খেলাঘর কেন্দ্রীয় আসরে সাধারণ সম্পাদক মোখলেসুর রহমান সাগর, উচীচী শিল্পপী গোষ্ঠীর সহ সাধারণ সম্পাদক জামসেদ আনোয়ার তপন, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক জীবনানন্দ জয়ন্ত, অভিনয় শিল্পী ও সাবেক ছাত্র নেতা সুমনা, সাবেক ছাত্র নেতা আক্রামুল হক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি খান আসাদুজ্জামান মাসুম, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শিশির চক্রবর্তী, নারায়ণগঞ্জ নাগরিক কমিটির সাধারণ সম্পদাক আব্দুর রহমান প্রমুখ।
