বর্তমানে ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশের অন্যতম এক প্ল্যাটফর্ম ফেসবুক টাইমলাইন। শুধু মতামত না; এখানে ছবিও পোস্ট করেন লাখো ব্যবহারকারী। টাইমলাইন ছাড়া ব্যক্তিগত ছবি ও মতামত চালাচালির আরেকটি জায়গা হলো ফেসবুকের ইনবক্স। কিন্তু প্রশ্ন হলো ফেসবুকে ব্যক্তিগত কথোপকথন এবং ছবি আদানপ্রদান কতটা ব্যক্তিগত? এসব ব্যক্তিগত ছবি বা কথা চালাচালি আদৌ কি ব্যক্তিগত থাকে?
নতুন করে এসব প্রশ্ন তোলার কারণ, ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত মেসেজ এবং ছবি স্ক্যান করে ফেসবুক -এই অভিযোগে সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং সাইটটির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে।
উত্তর ক্যালিফোর্নিয়ার একটি জেলা আদালতে ফেসবুকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে বলা হয়েছে যে, ফেসবুকের প্রাইভেট মেসেজিং সিস্টেমের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের শেয়ার করা ব্যক্তিগত মেসেজগুলি নিয়মিত স্ক্যান করে সংশ্লিষ্টরা।
এই নজরদারি দেশটির 'ইলেকট্রনিক কমিউনিকেশনস ভায়োলেশন অ্যাক্ট'কে অমান্য করা বলেও মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে এ ব্যাপারে ফেসবুকের বক্তব্য, বিজ্ঞাপনের কারণে ডেটা অ্যানালিসিসের জন্যই এই স্ক্যানিং করা হয় এবং সেখানে ইউআরএল-গুলির প্রত্যেকটি আলাদা করে দেখা হয় না। 'এগ্রিগেট ডেটা' হিসেবেই সেগুলিকে গণ্য করা হয়।
কিন্তু এক্ষেত্রেও বিপদ থেকেই যায়। যেমন, অনেক দম্পতি যারা আলাদা শহরে থাকেন তারা ব্যক্তিগত ছবি একে অপরকে শেয়ার করেন ফেসবুক মেসেঞ্জারে। সেখানে এমন কিছু ছবি থাকতেই পারে, যা একেবারেই ব্যক্তিগত। 'এগ্রিগেটে ইউআরএল স্ক্যান' করা হলেও কোন ব্যবহারকারী প্রোফাইল থেকে এই ধরনের ছবি শেয়ার করা হচ্ছে তার উপরে ফেসবুকের নজরদারি থাকে।
এছাড়া মামলাকারীদের বক্তব্য, এই স্ক্যান করা মেসেজগুলি আর্কাইভ করা হয় এবং সেক্ষেত্রে ফেসবুকের যে কোনও কর্মচারী ইচ্ছে করলেই সেগুলি খুলে দেখতে পারেন। তার চেয়েও বড় কথা, কোনও খোলামেলা ছবি ইচ্ছে করলেই কেউ পর্নোগ্রাফিক সাইটে দিতে পারেন। ব্যবহারকারীরা জানতেই পারবেন না যে, তাদের ব্যক্তিগত টেক্সট বা ছবি বেআইনিভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সূত্র- দ্যা ভার্জ।
