ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ মনপুরা উপজেলা সদর থেকে সাকুচিয়া ২টি ইউনিয়নে যাওয়ার জন্য নির্মিত পাকা সংযোগ সড়কটি ঘূর্নিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে মেঘনায় অস্বাভাবিক জোয়ার বৃদ্ধি পাওয়ায় তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে প্রায় ভেঙ্গে গিয়েছে। এটি পরিপূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে ২ ইউনিয়নের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। ফলে যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাবে চরম দুর্ভোগে পড়বে ২ ইউনিয়নের ৩০ সহস্রাধিক মানুষ।
৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলা। সর্ব উত্তরের ইউনিয়নের নাম মনপুরা। হাজীর হাট ইউনিয়নটি মাঝখানে অবস্থিত বিধায় এখানেই গড়ে উঠেছে প্রধান শহর। বাকি ২টি ইউনিয়ন হল- উত্তর সাকুচিয়া ও দক্ষিণ সাকুচিয়া। উপজেলা সদর থেকে এই দুই ইউনিয়নে যাওয়ার জন্য একটি পাকা সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা হয়েছে। রাক্ষুসে মেঘনা ক্রমেই সংযোগ সড়কটির কাছাকাছি চলে আসে। কিন্তু গত কয়েকদিনের ঝড়-জলোচ্ছাসের কারণে মেঘনা আরও রাক্ষুসে রূপ নেয়। ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর প্রভাবে বর্তমানে পাকা সংযোগ সড়কটি প্রায় ভেঙ্গে গেছে। পাকা সংযোগ সড়কটির নীচ থেকে মাটি সরে গিয়েছে। ভাঙ্গন অব্যাহত থাকলে ২/১দিনের মধ্যেই সংযোগ সড়কটি পুরোপুরি ভেঙ্গে যাওয়ার আশংকা করা হচ্ছে।
এদিকে সংযোগ সড়কটি ভেঙ্গে গেলে উপজেলা শহর হাজীর হাট থেকে দক্ষিণে অবস্থিত ২টি ইউনিয়ন উত্তর সাকুচিয়া ও দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩০ সহস্রাধিক মানুষ বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে। ফলে কোন কাজে ঐসব ইউনিয়নের সাধারণ মানুষগুলো সহজে উপজেলা সদরে এসে গুরুত্বপূর্ণ কাজ করতে পারবেনা। এছাড়া শহরে আসতে হলে তাদের বাধ্য হয়ে নৌকা কিংবা অন্যকোন বিকল্প বাহনের সহযোগিতা নিতে হবে।IMG0
এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ সহকারী প্রকৌশলী আবুল কালাম বলেন, ভেঙে যাওয়া রাস্তার পেছন দিয়ে বিকল্প আরেকটি রাস্তার কাজ চলছে। দ্রুত কাজটি সম্পন্ন করার জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যাতে সাধারণ জনগনের বর্ষাকালে চলাচলে কোন অসুবিধা না হয়।
উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মিসেস সেলিনা আকতার চৌধুরী বলেন, পাকা সড়কটি রক্ষা করার জন্য আমরা ইতিমধ্যে ড্যাম্পিং ব্যবস্থা করে দিয়েছি। কিন্তু জোয়ারের তীব্রতার কারণে ঢেউয়ের আঘাতে তা নষ্ট হয়ে গেছে। আমরা বিষয়টি সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলীর সঙ্গে আলাপ করব।
