দুপুর বেলা। কী যে রোদ পড়েছে! আগুনের মতো গনগনে। টুই বাসায় একা। চিরল চিরল পাতা ভেদ করে নিম শাখের বাসাটায় ঢুকে পড়েছে রোদ। টুইসোনা রোদে পুড়ছে তো পুড়ছেই। পিপাসাও পেয়েছে খুব। গলাও শুকিয়ে গেছে। এখন কে দেবে জল? কে দেবে ছায়া? চিঁচিঁ করে একটানা ডেকে চলছে টুই।
বাবা টোনা গেছে খড়কুটো কুড়োতে। বাসাটা মেরামত করতে হবে তো, তাই। আর মা টুনি গেছে টুইসোনার জন্য শর্ষেদানা আনতে। কিন্তু ফিরে আসছে না কেন? অনেক দূরে গেছে বুঝি?
টুই তো ডেকেই চলছে। চিঁচিঁ। চিঁচিঁ। ও আসলে কান্না করছে। একটু পানির জন্য। একচিলতে ছায়ার জন্য। ওর তুলতুলে ডানা দুটি নাড়াচ্ছে আর বলছে, চিঁ-ই-ই-ই, চিঁ-ই-ই-ই, চিঁ-ই- ই-ই।
নিমগাছটার পাশেই ছিল লাউয়ের মাচা। মাচাভরা লাউগাছ। হলদে হলদে ফুল। সবুজ সবুজ পাতা।
টুইসোনার জন্য মায়া হলো লাউফুলের। বলল, ও টুই, তুমি কাঁদছ কেন?
টুই চিঁচিঁ করে বলল, আমার পিপাসা পেয়েছে। রোদ লেগেছে।
লাউফুল বলল, তুমি একটুখানি ফুড়ুত দিয়ে আমার কাছে আসো। আমার পাপড়িতে কয়েক ফোঁটা শিশির জমে আছে। আপাতত এইটুকু খেয়ে যাও সোনা।
লাউপাতা টুইকে বলল, তোমার ফুল বুবুর শিশিরটুকু খেয়ে আমার সবুজ ছায়ার তলে বসো। খুব আরাম পাবে। তুমি একটুও চিন্তা কোরো না টুই। তোমার মা-বাবা বাসায় নেই, তাই কী হয়েছে? তোমার তো ফুলবুবু আছে। পাতা মা আছে।
টুই আর দেরি করল না। উড়ে এল লাউমাচায়। ফুলের শিশির খেয়ে পিপাসা মেটাল। তারপর পাতার ছায়ায় ঘুমিয়ে পড়ল।
বাবা টোনা আর মা টুনি বাসায় এসে টুইকে পেল না। খুব চিন্তায় পড়ে গেল। কেবলই উড়াল শিখেছে। বেশিদূর যেতেও পারবে না টুই। এ ডাল ও ডাল খুঁজল। গাছের নিচে পড়ে গেল কি-না, তা-ও দেখল। না, ওখানেও নেই। টুইকে না পেয়ে কান্না শুরু করে দিলো টোনা আর টুনি।
টুই ঘুমুচ্ছে তো ঘুমুচ্ছেই। পাতার ছায়ায় খুব আরামে ঘুমুচ্ছে। মা-বাবার কান্নার শব্দে হঠাত্ জেগে উঠল ও। তারপর ফুড়ুত করে উড়ে বাসায় গেল।
মা-বাবা টুইকে পেয়ে চিন্তামুক্ত হলো। জিজ্ঞেস করল, কোথায় গিয়েছিলে তুমি?
টুই বলল, লাউমাচায়। ফুল বুবু আর পাতা মা’র কাছে। তারপর ঘটনাটা মা-বাবাকে খুলে বলল। টোনা-টুনি খুশি হয়ে হলদে লাউফুলকে আর সবুজ পাতাকে ধন্যবাদ জানাল। বলল, তোমরা না থাকলে আমাদের টুইসোনার আজ কী যে হতো! হে পাতা-ফুল, তোমরা খুব ভালো।
অলঙ্করণ :সোহেল আশরাফ
