ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের তনুর বাবার উকিল নোটিশ

আপডেট : ২৫ মে ২০১৬, ১১:২৫
 
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যার ময়নাতদন্তে আলামত গোপন করার অভিযোগ এনে তার বাবা ইয়ার হোসেন ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকদের এবার উকিল নোটিশ প্রদান করেছেন।
 
নোটিশটি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ মোহসিন-উজ-জামান চৌধুরী, ফরেনসিক বিভাগীয় প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা এবং তনুর প্রথম ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক শারমিন সুলতানার বরাবরে পাঠানো হয়। ওই নোটিশ কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এসেছে বলে নিশ্চিত করেছেন ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তকারী ৩ সদস্যের চিকিৎসক বোর্ডের প্রধান ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। 
 
জানা যায়, তনু হত্যার মামলার বাদী তার বাবা ইয়ার হোসেনের পক্ষে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সালমা আলীর পাঠানো ওই নোটিশে তনুর মৃতদেহের প্রথম ময়নাতদন্তে ধর্ষণের আলামত না পাওয়া ও দ্বিতীয় ময়নাতদন্তে কালপেণ করায় কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়েছে। 
 
এ বিষয়ে তনুর বাবা ইয়ার হোসেন মুঠো ফোনে জানান, পরিকল্পিতভাবেই তনুর ময়নাতদন্তের রিপোর্টে সত্য আড়াল করা হচ্ছে, তাই তিনি ন্যায় বিচারের স্বার্থে আইনি লড়াই করে যাবেন বলে জানিয়েছেন। 
 
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ তনুর মরদেহ কুমিল্লা সেনানিবাসের অভ্যন্তরে তার বাসার পাশে একটি জঙ্গলের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। পর দিন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ফরেনসিক বিভাগের প্রভাষক ডা. শারমিন সুলতানা তনুর প্রথম ময়নাতদন্ত করেন। ডিএনএ আলামত সংগ্রহের জন্য মামলার দ্বিতীয় তদন্তকারী সংস্থা ডিবি’র আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ৩০ মার্চ কবর থেকে তনুর মরদেহ উত্তোলন করা হয়। 
 
তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড দ্বিতীয় দফায় ময়নাতদন্ত ও ডিএনএ আলামত সংগ্রহ করে। গত ৪ এপ্রিল তনুর প্রথম ময়নতদন্ত রিপোর্ট দেয়া হয়। এতে তনুকে হত্যা কিংবা ধর্ষণের আলামত ছিল না বলে জানানো হয়। কিন্তু গত ৫৬ দিনেও নানা অজুহাতে দেয়া হয়নি দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্ট। 
 
এরই মধ্যে ডিএনএ রিপোর্টে তনুকে ধর্ষণের আলামত পাওয়ার খবর সিআইডি থেকে গণমাধ্যম কর্মীদের জানানো হলে এ নিয়ে দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি করে।